ইভ্যালি মামলায় সংশ্লিষ্টতা নেই তাহসান, মিথিলা, শবনম ফারিয়ার: পুলিশ
প্রতারণার অভিযোগে ই-কমার্স প্ল্যাটফর্ম ইভ্যালির বিরুদ্ধে ধানমন্ডি থানায় করা মামলায় সঙ্গীতশিল্পী ও অভিনেতা তাহসান খানসহ ৫ অভিযুক্ত ব্যক্তির কোনো সংশ্লিষ্টতা খুঁজে না পাওয়ায় অভিযোগপত্র থেকে তাদের নাম বাদ দিয়েছে পুলিশ।
অভিযোগপত্র থেকে বাদ পড়া অপর ৪ জন হচ্ছেন অভিনেত্রী রাফিয়াত রশিদ মিথিলা (ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর), শবনম ফারিয়া (প্রধান জনসংযোগ কর্মকর্তা), এস এম আরিফ রেজা হোসাইন (প্রধান বিপণন কর্মকর্তা) এবং আবু কায়েস (নির্বাহী অপারেশন্স কর্মকর্তা)।
এর আগে ভিন্ন তারিখে তাহসান, মিথিলা ও ফারিয়া হাইকোর্ট ও চিফ মেট্রোপলিটন আদালত থেকে জামিন পেয়েছিলেন।
পুলিশ এই মামলায় ইভ্যালির সিইও মোহাম্মদ রাসেল ওরফে বাবুল, চেয়ারম্যান শামীমা নাসরিন, ভাইস প্রেসিডেন্ট আবদুল্লাহ আল মামুন এবং ক্যাটেগরি হেড মোহাম্মদ আবু তাহের ওরফে সাদ্দামের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেছে।
মামলার এজাহারে রাসেল ও শামীমাকে গ্রেপ্তার এবং মামুন ও সাদ্দামকে পলাতক দেখানো হয়।
ধানমন্ডি থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ও এই মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ম. রাজিব হাসান গতকাল বুধবার ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলার অভিযোগপত্র দাখিল করেন।
অভিযোগপত্রে এসআই রাজিব জানান, মিথিলা ও ফারিয়া ঘটনার সময় ইভ্যালিতে চাকরিরত ছিলেন না এবং তাহসান কখনো কাউকে ইভ্যালির কোনো পণ্য কেনার অথবা সরবরাহ করার নির্দেশ দেননি।
এ কারণে এ মামলার অভিযোগ থেকে তাদের নাম বাদ দেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।
রাজিব হাসান আরও জানান, অনুসন্ধানে তিনি রাসেল, শামীমা ও অপর ২ জনের বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগের সত্যতা পেয়েছেন এবং তাদেরকে বিচারের আওতাও আনা প্রয়োজন।
মামুন ও সাদ্দাম কোনো আদালত থেকে জামিন না পাওয়ায় রাজীব তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির জন্য আদালতের কাছে আবেদন জানান।
গত বছরের ৪ ডিসেম্বর ইভ্যালির একজন সংক্ষুব্ধ ভোক্তা সাদ স্যাম রহমান ধানমন্ডি থানায় রাসেল, শামীমা, তাহসান, মিথিলা ও ফারিয়াসহ মোট ৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, তাহসান, মিথিলা ও ফারিয়া ইভ্যালির বিভিন্ন দায়িত্বে ছিলেন। তাদের উপস্থিতি ও বিভিন্ন প্রচারণামূলক বক্তব্যে আস্থা রেখে বাদী সাদ স্যাম ইভ্যালিতে ৩ লাখ ১৮ হাজার টাকা বিনিয়োগ করেন।
বাদী অভিযোগ করেন, তিনি তারকাদের প্রচারণামূলক বক্তব্যের কারণে প্রতারিত হয়েছেন।
তাহসান ইভ্যালির শুভেচ্ছা দূত ছিলেন। মিথিলা 'ফেস অব ইভ্যালি লাইফস্টাইল' ছিলেন এবং ফারিয়া প্রধান জনসংযোগ কর্মকর্তা হিসেবে ইভ্যালিতে যোগ দিয়েছিলেন।