কাজলের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা বাতিলের আবেদন হাইকোর্টে খারিজ

স্টার অনলাইন রিপোর্ট

ফটোসাংবাদিক শফিকুল ইসলাম কাজলের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে করা ৩টি মামলা বাতিলের আবেদন খারিজ করেছেন হাইকোর্ট। এতে করে সংশ্লিষ্ট ট্রাইব্যুনালের বিচার কার্যক্রম চালিয়ে যেতে আইনি বাধা থাকছে না।

আজ মঙ্গলবার বিচারপতি এ এস এম আবদুল মবিন ও বিচারপতি মহিউদ্দিন শামীমের হাইকোর্ট বেঞ্চ ৩ মামলার বিচার কার্যক্রম বাতিল চেয়ে কাজলের করা ৩টি পৃথক আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন।

ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সুজিত চ্যাটার্জি দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'আবেদনগুলো যথাযথভাবে উপস্থাপন করা হয়নি বিবেচনা করে বেঞ্চ সেগুলো খারিজ করে দেন।

তিনি বলেন, 'হাইকোর্টের আদেশের পর মামলাগুলোর বিচার কার্যক্রম চালাতে সংশ্লিষ্ট ট্রাইব্যুনালের কোনো আইনি বাধা নেই।

আবেদনের ভার্চুয়াল শুনানির সময় কাজলের পক্ষে আইনজীবী জ্যোতির্ময় বড়ুয়া উপস্থিত ছিলেন।

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে করা ৩টি মামলায় কাজলের বিরুদ্ধে ঢাকার একটি ট্রাইব্যুনাল গত বছরের ৮ নভেম্বর অভিযোগ গঠন করেন।
 
কাজলের বিরুদ্ধে ২০২০ সালের ৮ এপ্রিল আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য (মাগুরা-১) সাইফুজ্জামান শিখর, ৪ ফেব্রুয়ারি যুব মহিলা লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য উসমিন আরা বেলী ও ১৪ মার্চ সুমাইয়া চৌধুরী বন্যা শেরেবাংলা নগর, হাজারীবাগ ও কামরাঙ্গীরচর থানায় পৃথক ৩টি মামলা করেন।

এসব মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের উপপরিদর্শক মোহাম্মদ রাসেল মোল্লা গত বছরের ৮ এপ্রিল, ৪ ফেব্রুয়ারি ও ১৪ মার্চ ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা ৩টির চার্জশিট জমা দেন। 

মামলায় কাজলের বিরুদ্ধে ফেসবুকে কয়েকজন মন্ত্রী, সংসদ সদস্য ও যুব মহিলা লীগের শীর্ষ নেতাদের সম্পর্কে অশালীন, মানহানিকর, আপত্তিকর এবং মিথ্যা তথ্য প্রচারের অভিযোগ আনা হয়েছিল।

কাজল ২০২০ সালের ১০ মার্চ নিখোঁজ হন এবং ওই বছরের ৩ মে যশোরের বেনাপোল সীমান্ত এলাকায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ তাকে আটক করে। তাকে ওইদিনই যশোর আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।

পরে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ওই ৩ মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

২০২০ সালের ২৪ নভেম্বর হাইকোর্ট ১টি মামলায় কাজলকে জামিন দেওয়ার আগে ৭ মাসে নিম্ন আদালত তাকে জামিন দেননি। 

মামলা দায়েরের ৭৫ দিনের মধ্যে তদন্ত শেষ করতে না পারায় ২০২০ সালের ১৭ ডিসেম্বর হাইকোর্ট তাকে অপর ২টি মামলায় জামিন দেন।

পরে ২৫ ডিসেম্বর তিনি জামিনে জেল থেকে বেরিয়ে আসেন।