কুষ্টিয়ায় সংঘর্ষে নিহত ৪: এখনো মামলা হয়নি, গ্রেপ্তার নেই
কুষ্টিয়া সদর উপজেলার ঝাউদিয়া ইউনিয়নে গতকাল সোমবার আওয়ামী লীগের ২ পক্ষের সংঘর্ষে ৪ জন নিহতের ঘটনায় আজ মঙ্গলবার বিকেল পর্যন্ত কোনো মামলা হয়নি। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত পুলিশ কাউকে গ্রেপ্তারও করেনি।
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুস্তাফিজুর রহমান রতন দ্য ডেইলি স্টারকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, পুলিশ হত্যাকাণ্ডের ঘটনার তদন্ত করছে, জড়িতদের খুঁজে বের করার চেষ্টা করছে।
সংঘর্ষের পেছনের বিভিন্ন সূত্রগুলো যাচাই করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।
ওসি মুস্তাফিজুর বলেন, 'এটা বিচ্ছিন্ন কোনো সংঘর্ষ ছিল না। ওই এলাকার বিবাদমান পক্ষগুলোর ধারাবাহিক গোলযোগ এ সংঘর্ষকে অনিবার্য করে তুলেছিল। আগেও সংঘর্ষ হয়েছে এবং হত্যাকাণ্ডের ঘটনাও ঘটেছিল।'
ঘটনায় কোনো গ্রেপ্তার বা আটক কেন নেই জানতে চাইলে ওসি বলেন, 'কোনো কারণ নেই। পুলিশ দোষীদের চিহ্নিত করতে একটু সময় নিচ্ছে। দোষীরা গ্রেপ্তার হবে, আইনের আওতায় আসবে।'
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ওই এলাকায় আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টার পরিপ্রেক্ষিতে সোমবার সন্ধ্যায় সংঘর্ষ ঘটে। ঝাউদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও ঝাউদিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি কেরামত আলী, একই ইউনিট আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী সদস্য ও ঝাউদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক সদস্য ফজলুল হক, আব্দুল মজিদ ও মেহেদী-এই ৪ জন এলাকায় প্রভাব তৈরির মাধ্যমে বিভিন্ন পক্ষ তৈরি করে রেখেছেন।
পুলিশ জানায়, বিভিন্ন পক্ষের দ্বন্দ্বের ফলেই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। তারা বিভিন্ন বিরোধে পক্ষ-বিপক্ষে অবস্থান নিয়ে সংঘর্ষ পরিস্থিতি তৈরি করে।
এর আগে ২০১৬ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর কেরামত ও মেহেদীর পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষে ৩ জন নিহত হন। নিহতরা সবাই কেরামত পক্ষের লোক।
গতকাল সোমবার ইফতারের আগে কেরামত আলী বিশ্বাসের অনুসারীরা ফজলুর অনুসারীদের সঙ্গে স্থানীয় একটি বাজারে তর্কে জড়িয়ে পড়ে। এক পর্যায়ে কেরামতের অনুসারীরা ফজলুর অনুসারীদের ওপর হামলা চালায়।
এ সময় কয়েকজন মিলে রহিমকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা করে।
এ ঘটনা জানাজানি হলে ইফতারের পর কেরামতের লোকজন রহিম হত্যায় জড়িত সন্দেহে মতিয়ারের বাড়িতে হামলা চালায়। এ সময় মতিয়ার (৪০), লাল্টু (৩০) ও কাশেম (৫০) নিহত হন।
পরে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়লে উভয় পক্ষের আরও ১৫-২০ জন আহত হন।
নিহতদের মরদেহ এখনো কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে আছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এদিকে এ সংঘর্ষকে রাজনৈতিক ঘটনা বলতে রাজি নন কুষ্টিয়া আওয়ামী লীগের নেতারা।
জানতে চাইলে কুষ্টিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আ স ম আক্তারুজ্জামান মাসুম ডেইলি স্টারকে বলেন, 'এলাকাগত আধিপত্য বিস্তারের জন্য এরা দীর্ঘদিন ধরেই সক্রিয়। তাদের মধ্যে কারো হয়তো দলের পদ-পদবী আছে। তবে এ সংঘর্ষ রাজনৈতিক নয়।'
যোগাযোগ করা হলে কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার খায়রুল আলম বলেন, 'মামলা হোক বা না হোক দুষ্কৃতিদের ধরতে বাধা নেই। পুলিশ ব্যবস্থা নিয়েছে। আশা করছি হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের শিগগির গ্রেপ্তার করা যাবে।'
