চুরির অভিযোগে শিক্ষার্থীর চুল কেটে নির্যাতন, কারাগারে ১

নিজস্ব সংবাদদাতা, পটুয়াখালী

পটুয়াখালীর দুমকিতে মোবাইল ফোন চুরির অপবাদ দিয়ে ১৪ বছরের এক কিশোরের মাথার চুল কেটে দেওয়ার ঘটনায় এক আসামিকে কারাগারে পাঠিয়েছে আদালত।

দুমকি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুস সালাম জানান, আসামি রিপন মুন্সীকে আটক করে আজ বুধবার দুপুরে পটুয়াখালীর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পাঠানো হয়। আদালত রিপনকে জেল হাজতে পাঠানোর আদেশ দেন।

ওসি জানান, গতকাল রাতে ভুক্তোভোগী শিক্ষার্থীর রানা মেম্বরসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে থানায় মামলা করেন। অন্যান্য আসামিদের গ্রেপ্তারে চেষ্টা চলছে। গ্রেপ্তারকৃত রিপন স্থানীয় রানা মেম্বরের সহযোগী।

মামলার নথি থেকে জানা যায়, গতকাল সকালে দুমকি উপজেলার পাঙ্গাশিয়া ইউনিয়নের ৮ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. রানা মিয়া ও তার সহযোগীরা পাঙ্গাশিয়া নেছারিয়া কামিল মাদ্রাসার সামনে মোবাইল চুরির অপবাদে দশম শ্রেণি পড়ুয়া কিশোরকে মারধর ও মাথার চুল কেটে দেয়। এই ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পরে।

ওই কিশোরের মা বলেন, স্কুল বন্ধ থাকায় বড় ভাইয়ের সঙ্গে কাজে যায় ছোট ভাই। কিন্তু কাজ না থাকায় তারা চলে আসার সময় মাদ্রাসার শিক্ষক ওলিউল্লাহর মোবাইল ফোন চুরির অপবাদ দিয়ে মাদ্রাসার কিছু শিক্ষার্থী ও স্থানীয় রানা মেম্বারের লোকজন আমার ছেলেকে ধরে আটকে মারধর করে।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, যে মোবাইল ফোনের জন্য আমার ছেলেকে এইভাবে নির্যাতন করা হলো তা ওই শিক্ষকের খাটের পাশেই পাওয়া গেছে। এমনকি মোবাইল ফোন পাওয়ার পরও তারা নিষ্ঠুরতা থামায় নাই।  

জানতে চাইলে মাদ্রাসার শিক্ষক হাফেজ ওলিউল্লাহ জানান, ওই কিশোরের বড় ভাই আমাদের মাদ্রাসায় কাজ করে। সকালে কাজে আসার পর বেঞ্চের উপর থাকা আমার মোবাইলটি পাওয়া যায়নি। ওই কিশোরকে জিজ্ঞেস  করলে সে অস্বীকার করে। পরে রানা মেম্বরকে ফোনে ডেকে তার হাতে তুলে দেয়া হয় ওই কিশোরকে। পরে কারা তার মাথার চুল কেটে দিয়েছে জানি না।

অভিযুক্ত রানা মেম্বারের মোবাইল ফোনে একাধিকার কল দেয়া হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।