জঙ্গি জিয়া বাইরে মাথায় রেখেই নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে: ডিএমপি কমিশনার

স্টার অনলাইন রিপোর্ট

জঙ্গি হামলার আশঙ্কা মাথায় রেখেই অমর একুশে গ্রন্থমেলার নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার মোহা. শফিকুল ইসলাম। আজ রোববার সকালে অমর একুশে গ্রন্থমেলা উপলক্ষে মেলা প্রাঙ্গণে সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা জানান।

ডিএমপি কমিশনার বলেন, অভিজিৎ হত্যা মামলার রায়ের পরে জঙ্গিদের ক্ষিপ্ত হওয়া স্বাভাবিক বলে আমরা মনে করছি। আমাদের যে মিটিং হয়েছে, সেখানেও আমরা বিশ্লেষণ করেছি। তাদের মূল নেতা মেজর জিয়া এখনো বাইরে আছে। ফলে এই ঝুঁকি আমরা একেবারে উড়িয়ে দিচ্ছি না। আমরা সে রকম প্রস্তুতি নিয়েই মেলার নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েছি।

তিনি আরও বলেন, জঙ্গিরা যদি বিস্ফোরণ ঘটায় সেই পরিস্থিতি মোকাবিলায় আমাদের প্রস্তুতি আছে। আমরা আশা করি সে ধরনের কিছু হবে না। তাদের তৎপরতা প্রায় শূন্য পর্যায়ে। শুধু মূল নেতা বাইরে আছে। সম্প্রতি দেশে-বিদেশ থেকে তাকে ধরার জন্য মোটা অংকের পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছে। আমরাও চেষ্টা করে যাচ্ছি তাকে গ্রেপ্তার করতে।

এক প্রশ্নের জবাবে শফিকুল ইসলাম বলেন, প্রতিবছরই লিটল ম্যাগাজিন চত্বরে কিছু বই আসে আপত্তিকর, সেটা নিয়ে হৈচৈ শুরু হয়। প্রস্তুতি মিটিংয়ে আমরা কথা বলেছি, বাংলা একাডেমির পক্ষ থেকে প্রতিদিন যে শত শত বই প্রকাশিত হয়, সেই বই মনিটর করা সম্ভব না। এতগুলো বই পড়ে সিদ্ধান্ত দেওয়া খুব কঠিন। এবার লিটল ম্যাগাজিন চত্বরে সিটি এসবির লোক থাকবে। প্রতিদিন কী বই আসছে সেটা আমরা আলাদা করে মনিটরিংয়ের ব্যবস্থা করবো। রাতে মেলা শেষ হওয়ার পরে কেউ যদি বই নিয়ে এসে ঢোকায়, সেই দায়িত্ব স্টল মালিক ও প্রকাশককে নিতে হবে।

মাস্ক না পরে কেউ মেলায় ঢুকতে পারবে না বলেও জানান তিনি।

মেলার নিরাপত্তা ব্যবস্থা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, মেলা কেন্দ্রিক, দোয়েল চত্বর কেন্দ্রিক এবং শাহবাগ-নীলক্ষেত এলাকায় মোট ৩টি নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকবে। বাংলা একাডেমি, সোহরাওয়ার্দী উদ্যান, শহীদ মিনার, টিএসসি এবং শাহবাগ-নীলক্ষেতে আমাদের তল্লাশি দল থাকবে। সন্দেহজনক কোনো কিছু দেখলে তারা তল্লাশি করবে। কোনো গাড়ি যেন ঢুকতে না পারে সেটাও তারা নিশ্চিত করবে। মেলার মূল প্যান্ডেলে ঢোকার আগে বাংলা একাডেমিতে দুটি গেট থাকবে এবং সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ৪টি প্রবেশ গেট ও ৪টি বহির্গমন রাস্তা থাকবে। প্রতিটিতে আর্চওয়ে স্থাপন করা হবে। মেটাল ডিটেকটর দিয়ে তল্লাশি করা হবে। সন্দেহ হলে পৃথক কক্ষে নিয়ে তল্লাশি করা হবে। বাংলা একাডেমি কর্তৃপক্ষ প্রতিটি জায়গা সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় নিয়ে এসেছে। শুধু মেলা প্রাঙ্গণ নয়, আশে পাশে যেসব রাস্তা ব্যবহার করে দর্শনার্থীরা মেলায় আসবেন সেগুলোও কাভার করা হয়েছে। মেলার ভেতরে ও বাইরে সাদা পোশাকে আমাদের সদস্যরা থাকবে। পাশাপাশি ডিবি ও সিটিটিসি দল এখানে কাজ করবে। মোটরসাইকেল ও পিকআপ ভ্যান নিয়ে আমাদের টহল দল থাকবে। এ ছাড়া, বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট প্রস্তুত থাকবে। জরুরি পরিস্থিতি তৈরি হলে ফায়ার সার্ভিস মানুষজনকে নিরাপদে সরিয়ে নেবে।