জাফলংয়ে পর্যটকদের ওপর প্রশাসনের স্বেচ্ছাসেবকদের হামলা, আটক ৫
সিলেটের পর্যটন এলাকা জাফলংয়ে পর্যটকদের ওপর উপজেলা প্রশাসন নিযুক্ত স্বেচ্ছাসেবকদের হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত ৩ জন পর্যটক আহত হয়েছে। এ ঘটনায় ৫ স্বেচ্ছাসেবককে আটক করেছে পুলিশ।
আজ বৃহস্পতিবার দুপুর ২টার দিকে জাফলংয়ের টিকেট কাউন্টারের সামনে এ ঘটনা ঘটে।
হামলার বেশ কিছু ছবি ও ভিডিও ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে।
একটি ভিডিওতে দেখা যায়, স্বেচ্ছাসেবক লেখা নীল ইউনিফর্ম পরা ৩ জন হাতে লাঠি নিয়ে পর্যটকদের পেটাচ্ছেন। এ সময় কয়েকজন নারী পর্যটক তাদেরকে থামাতে গিয়ে লাঞ্ছিত হন।
জানতে চাইলে গোয়াইনঘাটের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. তাহমিলুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন।
তিনি দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'পর্যটকদের ওই দলটি টিকেট ছাড়াই জাফলং এলাকায় ঢুকতে চাইলে টিকেট কাউন্টারের কাছে থাকা স্বেচ্ছাসেবকদের সঙ্গে তাদের কথা কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে স্বেচ্ছাসেবকরা পর্যটকদের ওপর হামলা চালায়।'
তিনি বলেন, 'ঘটনাটি খুবই দুঃখজনক এবং এতে আমাদের পর্যটনের অনেক ক্ষতি হলো। যেহেতু হামলাকারীরা আমাদের নিয়োজিত স্বেচ্ছাসেবক, তাই আমি দায় নিচ্ছি।'
ইতোমধ্যেই ৩ জন স্বেচ্ছাসেবককে বরখাস্ত করা হয়েছে বলে জানান ইউএনও।
'স্থানীয় পুলিশকে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে বলেছি,' বলেন তিনি।
গোয়াইনঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কে এম নজরুল ইসলাম ডেইলি স্টারকে বলেন, 'আমরা হামলাকারী স্বেচ্ছাসেবকদের চিহ্নিত করেছি, তাদের মধ্যে ৫ জনকে ইতোমধ্যে আটক করা হয়েছে।'
আটককৃত স্বেচ্ছাসেবকরা হলেন-উপজেলার পন্নগ্রামের বাসিন্দা লক্ষ্মণ চন্দ্র দাস (২১) ও ইসলামপুরের বাসিন্দা মো. সেলিম আহমেদ (২১), নয়াবস্তি এলাকার সোহেল রানা, পশ্চিম কালীনগর গ্রামের নাজিম উদ্দিন ও ইসলামপুর রাধানগর গ্রামের জয়নাল আবেদীন।
জানতে চাইলে সিলেট জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. লুতফুর রহমান ডেইলি স্টারকে বলেন, 'এখন পরিস্থিতি স্বাভাবিক আছে। পর্যটকদের নিরাপত্তায় পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।'
এ বিষয়ে জাফলং টুরিস্ট পুলিশের ইনচার্জ মো. রতন শেখ ডেইলি স্টারকে বলেন, 'খবর পেয়ে সঙ্গে সঙ্গে আমাদের একটা টিম ঘটনাস্থলে গিয়েছে। জাফলংয়ে পানিতে পড়ে একজন পর্যটক নিখোঁজ হয়েছেন, এমন সংবাদে আমরা অন্যদিকে ব্যস্ত ছিলাম। ওই সময়ে এ ঘটনা ঘটেছে।'