গাজীপুর

টাকার জন্য মাকে অজ্ঞান করে হত্যা করেছে মেয়ে: পুলিশ

নিজস্ব সংবাদদাতা, গাজীপুর

গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলায় গত ১১ ফেব্রুয়ারি এক নারীর মরদেহ উদ্ধারের পর, তার মৃত্যুর রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। ওই নারীর মেয়ে তাকে টাকার জন্য হত্যা করেছে বলে পুলিশের তদন্তে বেরিয়ে এসেছে। এ বিষয়ে মেয়ে শেফালী বেগম (৩৫) আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দিয়েছেন।

শ্রীপুর থানার উপপরিদর্শক ও ওই ঘটনায় করা মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা আমজাদ শেখ আজ শুক্রবার দ্য ডেইলি স্টারকে এ সব তথ্য জানিয়েছেন।

নিহত মিনারা বেগম (৫৭) শ্রীপুর পৌরসভার ভাংনাহাটী গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। তাকে হত্যার অভিযোগে একমাত্র মেয়ে শেফালীকে গত বুধবার গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

পুলিশ জানায়, অজ্ঞাতনামা হিসেবে নারীর মরদেহ উদ্ধারের পর থানায় হত্যা মামলা করা হয়। ওই নারীর পরিচয় নিশ্চিতের পর তদন্ত শেষে বুধবার মেয়ে শেফালী ও বৃহস্পতিবার শেফালীর সহকর্মী সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করা হয়। 

তারা গতকাল বৃহস্পতিবার গাজীপুর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শাকিল আহমেদের আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

তদন্ত কর্মকর্তা আমজাদ শেখ জানান, শেফালীর সংসারে টাকার দরকার হলে, মা মিনারাকে জানাতেন। শেফালী ছোট থাকা অবস্থায় তার বাবা পরিবার ছেড়ে যায়। 
বাবার কাছ থেকে পাওয়া প্রায় ৯ শতাংশ জমি ও ২টি গরু বিক্রি করে টাকা দেওয়ার জন্য সম্প্রতি মিনারা বেগমকে চাপ দেয় শেফালী। এতে মিনারা বেগম রাজি না হওয়ায় শেফালীর সঙ্গে মিনারার বাকবিতণ্ডা হয়। 

এতে শেফালী ক্ষুব্ধ হয়ে মা মিনারা বেগমকে হত্যার পরিকল্পনা করে। মাকে হত্যার জন্য সহকর্মী সোহেল রানাকে বিষয়টি জানায়। মিনারাকে হত্যা করতে ১ লাখ টাকা দাবি করেন সোহেল রানা। 

পরিকল্পনা অনুযায়ী গত ১০ ফেব্রুয়ারি শেফালী তার মা মিনারাকে নিয়ে কেওয়া এলাকার সিআরসি মোড়ে সোহেলের জন্য অপেক্ষা করতে থাকে। এরপর সোহেল এলে মা ও মেয়েসহ ৩ জন একটি অটোরিকশা ভাড়া করে উপজেলার বরমীর উদ্দেশ্যে রওনা দেন। 

পথে সোহেল কোমল পানীয়ের মধ্যে চেতনানাশক ওষুধ মিশিয়ে মিনারাকে খেতে দেন। সেটি খাওয়ার পর মিনারা অচেতন হয়ে পড়েন। পরে জঙ্গলের ভেতর নিয়ে শেফালী ইট দিয়ে তার মায়ের মাথায় আঘাত করে। পরে সোহেল ছুরি দিয়ে আঘাত করে মিনারার মৃত্যু নিশ্চিত করে, মরদেহ ফেলে রেখে দুজনে সেখান থেকে চলে যায়।

জানতে চাইলে কালিয়াকৈর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার আজমীর হোসেন বলেন, 'টাকার জন্য মেয়ে তার মাকে হত্যা করতে পারে, এমন ধারণাই ছিল না পুলিশের। দীর্ঘ তদন্ত শেষে পুলিশ একটি ক্লুলেস হত্যা মামলার রহস্য সফলভাবে উদ্ঘাটন করতে সক্ষম হয়েছে।