ঢাকাসহ ৫ জেলায় ৩১৮ অবৈধ ইটভাটা, আদালতে পরিবেশ অধিদপ্তর

স্টার অনলাইন রিপোর্ট

ঢাকাসহ ৫ জেলায় এখনো ৩১৮টি অবৈধ ইটভাটা রয়েছে বলে আদালতকে জানিয়েছে পরিবেশ অধিদপ্তর। আজ বুধবার অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. আবদুল হামিদ এ তথ্য উপস্থাপন করেন।

তিনি জানান, ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান পরিচালনা করে ঢাকা ছাড়াও গাজীপুর, মানিকগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ এবং মুন্সিগঞ্জে ইতোমধ্যে ৯৫টি অবৈধ ইটভাটা বন্ধ করা হয়েছে।

বায়ু দূষণ রোধে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা চেয়ে হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশ (এইচআরপিবি) ২০১৯ সালে রিট করেছিল। এরপর হাইকোর্টের নির্দেশনায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়।

পরিবেশ অধিদপ্তরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ঢাকায় অবৈধ ইটভাটার সংখ্যা ১১২টি। এ ছাড়া, মানিকগঞ্জে ১১টি, মুন্সিগঞ্জে ২৬টি, গাজীপুরে ৪৬টি এবং নারায়ণগঞ্জে ১২৩টি অবৈধ ইটভাটা রয়েছে।

ঢাকা জেলা প্রশাসক মো. শহীদুল ইসলাম আদালতকে বলেন, ইতোমধ্যে ঢাকায় ২৭টি অবৈধ ইটভাটা বন্ধ করা হয়েছে। বর্তমানে মোট ১২৮টি চালু আছে।

গাজীপুরের জেলা প্রশাসক আদালতকে নিশ্চিত করেছেন, তার জেলায় বর্তমানে ৪৬টি অবৈধ ইটভাটা চালু আছে।

বিচারপতি মো. আশফাকুল ইসলাম এবং বিচারপতি মো. ইকবাল কবির জেলা প্রশাসকদের অবৈধ ইটভাটার তালিকা নথি আকারে দিতে বলেছেন। একইসঙ্গে পরবর্তী শুনানির জন্য আগামী ২৩ ফেব্রুয়ারি তারিখ নির্ধারণ করেছেন।

রিট আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মনজিল মোরসেদ।

বায়ু দূষণ রোধে কার্যকর উদ্যোগ নিতে একাধিকবার নির্দেশনা দেওয়ার পরও সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো নিষ্ক্রিয় থাকায় গত ১ ফেব্রুয়ারি আদালত উষ্মা প্রকাশ করেন।

পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ও ৫ জেলা প্রকাশককে পরবর্তী শুনানিতে উপস্থিত থাকতে এদিন আদালত নির্দেশ দেন। গত বছরের ৪ ফেব্রুয়ারি ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালককে জরুরি ভিত্তিতে গাবতলী, যাত্রাবাড়ী, পূর্বাচল, কেরানীগঞ্জ ও টঙ্গীসহ রাজধানীর ঢাকার প্রবেশ দারগুলোতে পানি ছিটানোর উদ্যোগ নেওয়ার নির্দেশনা দিয়েছিলেন।

আদালত আরও বলেছিলেন, কোথাও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটলে ফায়ার সার্ভিস তাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করবে। এ ছাড়া, বাকি সময় এটি হবে ফায়ার সার্ভিসের প্রধান দায়িত্ব।

সিটি করপোরেশনকে পর্যাপ্ত পানি সরবরাহ করতে ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালককেও নির্দেশ দিয়েছিলেন আদালত।

পাশাপাশি ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনকে রাজধানীর ভেতরে রাস্তায় ও সড়ক বিভাজনে পানি ছিটিয়ে দিতে নির্দেশ দিয়েছিলেন আদালত।