ধর্ষণ: সংশোধিত সাক্ষ্য আইনের খসড়া হাইকোর্টে
ধর্ষণের ভিকটিমের চরিত্র নিয়ে আদালতে প্রশ্ন তোলা বন্ধ করতে সাক্ষ্য আইন সংশোধনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এরই মধ্যে সংশোধিত আইনের খসড়া তৈরি করা হয়েছে বলে সরকারের পক্ষ থেকে হাইকোর্টকে জানানো হয়েছে।
সাক্ষ্য আইনে ১৫৫ (৪) ও ১৪৬ (৩) ধারায় ধর্ষণের মামলায় ভিকটিমের চরিত্র নিয়ে প্রশ্ন তোলার সুযোগ রাখায় এর বৈধতা নিয়ে গত বছরের ১৪ নভেম্বর হাইকোর্টে রিট আবেদন করেছিল বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্রাস্ট (ব্ল্যাস্ট), আইন ও সালিস কেন্দ্র (আসক) ও নারীপক্ষ।
আজ রিটের শুনানির সময় ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সমরেন্দ্রনাথ বিশ্বাস আইনটি সংশোধনের উদ্যোগের কথা জানান। তিনি সংশোধিত আইনের একটি খসড়া কপি বিচারপতি ফারাহ মাহবুব ও বিচারপতি এসএম মনিরুজ্জামানের বেঞ্চে উপস্থাপন করেন।
পরে আদালত আগামী ২০ ফেব্রুয়ারি পরবর্তী শুনানি ও আদেশের জন্য দিন ধার্য করেন।
এর আগে গত ১৬ নভেম্বর হাইকোর্টের আরেকটি বেঞ্চ ১৮৭২ সালের সাক্ষ্য আইনের ১৫৫ (৪) ধারা বাতিলের ব্যাপারে সরকার কী ব্যবস্থা নিয়েছে জানতে চেয়েছিল।
সাক্ষ্য আইনের ১৫৫ (৪) ধারার ভাষ্য, কোনো ব্যক্তি যখন বলাৎকার বা শ্লীলতাহানির চেষ্টার অভিযোগে ফৌজদারিতে সোপর্দ হন, তখন দেখানো যেতে পারে যে অভিযোগকারী সাধারণভাবে দুশ্চরিত্রা।
আর জেরায় আইনসংগত প্রশ্নসংক্রান্ত ১৪৬ (৩) ধারার ভাষ্য, চরিত্রের প্রতি আঘাত করে তার বিশ্বাসযোগ্যতা সম্পর্কে অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করা যায়, যদিও তার প্রশ্নের উত্তরের দ্বারা তিনি প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে অপরাধের সঙ্গে জড়িত হতে পারেন, তিনি দণ্ড লাভের যোগ্য সাব্যস্ত হতে পারেন কিংবা প্রত্যক্ষ–পরোক্ষভাবে তার দণ্ড লাভের যোগ্য সাব্যস্ত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।