নথি জালিয়াতির মাধ্যমে মসজিদের জমি বিক্রি
লালমনিরহাটে নথি জালিয়াতির মাধ্যমে মসজিদের নামে থাকা ১৮ দশমিক ৫৪ শতাংশ জমিকে ডাঙা শ্রেণির উল্লেখ করে দলিল তৈরি করায় দলিল লেখক সাইফুল ইসলাম মন্টুকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
আজ সোমবার বিকেলে তাকে বরখাস্ত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলা সাব রেজিস্টার এইচ এম মিরাজ সৌরভ।
এ বিষয়ে তদন্ত করে অভিযুক্ত দলিল লেখকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
মিরাজ সৌরভ সোমবার বিকেলে দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'জমিটি মসজিদ শ্রেণিতে রয়েছে। কিন্তু দলিল লেখক জালিয়াতির মাধ্যমে জমিটিকে ডাঙা শ্রেণিতে রূপান্তর করেন। গত ২০ ফেব্রুয়ারি দলিলটি সম্পন্ন করা হয়।'
'আমার সঙ্গেও প্রতারণা করেছেন দলিল লেখক। দলিল লেখকের উপস্থাপিত ডকুমেন্টের ওপর ভিত্তি করে আমি দলিলটি সম্পন্ন করি।'
তিনি আরও বলেন, 'রোববার বিকেলে স্থানীয়রা আমাকে বিষয়টি জানালে খোঁজ নিয়ে এর সত্যতা পাই। আজ সোমবার বিকেলে দলিল লেখককে সাময়িক বরখাস্ত করি।'
স্থানীয়রা দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'আদিতমারী উপজেলার মহিষখোচা ইউনিয়নের রসূলপাড়া গ্রামে ২৭-২৮ বছর আগে একটি মসজিদ ছিল। মাঠ জরিপের সময় সেখানকার জমিটি মসজিদের নামে রেকর্ড হয়। পরে মসজিদটি অন্য জায়গায় স্থানান্তর করা হয়। তবে ওই এলাকার একাব্বর আলীর ছেলে নুর ইসলাম ও তার ভাইয়েরা জমিটি পৈত্রিক সূত্রে পাওয়া দাবি করে একই এলাকার আব্দুল হামিদ মাস্টারের ছেলে ইউনুস আলী ও তার ভাইদের কাছে ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা মূল্যে বিক্রি করেন।
সাময়িক বরখাস্ত হওয়া দলিল লেখক সাইফুল ইসলাম মন্টু আদিতমারী উপজেলার মহিষখোচা গ্রামের বাসিন্দা। তিনি বিডিআর বিদ্রোহের সময় চাকরিচ্যুত হয়ে ২০১৩ সালে দলিল লেখকের সনদ গ্রহণ করেন।
সাইফুল ইসলাম মন্টু দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'জমির ক্রেতা-বিক্রেতা মিলে আমাকে ডকুমেন্ট সরবরাহ করেন। তাদের দেওয়া ডকুমেন্ট অনুযায়ী আমি দলিলটি সম্পন্ন করি।'
তিনি আরও বলেন, 'জমিটি মসজিদের নামে, সেটি আমার জানা ছিল না। যেহেতু ক্রেতা-বিক্রেতা আমাকে জমিটির যাবতীয় নথি সরবরাহ করেছেন, তাই আমি তাদের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করব।'
তবে ওই জমির ক্রেতা ইউনুস আলী দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'আমি এ ব্যাপারে কিছু জানি না। জমি বিক্রেতা ও দলিল লেখক মিলে এসব ডকুমেন্ট সংগ্রহ করেন। আমরা শুধু জমি কেনার জন্য টাকা দিয়েছি।'
জমি বিক্রেতা নুর ইসলামের দাবি, দলিল লেখক নিজেই এসব নথি তৈরি করেন। এজন্য তাকে টাকা দেওয়া হয়।
মহিষখোচা ইউনিয়ন ভূমি অফিসের সহকারী ভূমি কর্মকর্তা (তহশিলদার) রেজাউল আলম দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'মসজিদ শ্রেণির কোনো ভূমির উন্নয়ন কর গ্রহণ করা হয় না। ৬০৭৩ নম্বর দাগে মসজিদ উল্লেখ থাকায় ভূমি কর নেওয়া হয়নি।'
দলিলটি বাতিল করা হবে কি না জানতে চাইলে সাব-রেজিস্ট্রার দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'এ ব্যাপারে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।'