পটুয়াখালীতে এলজিইডির ২ প্রকৌশলী ‘লাঞ্ছিত’, মামলা
পটুয়াখালীতে এক ঠিকাদারের বিরুদ্ধে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) ২ প্রকৌশলীকে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ উঠেছে।
লাঞ্ছনার অভিযোগ করা ওই প্রকৌশলীরা হলেন, এলজিইডির দুমকী উপজেলা প্রকৌশলী মো. নাজিম উদ্দীন ও উপ-সহকারী প্রকৌশলী আব্দুস সালাম। গতকাল রোববার দুপুর ১২টার দিকে উপজেলা এলজিইডি কার্যালয়ে এই ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনায় রোববার রাতে দুমকী থানায় মেসার্স পল্লী ট্রেডার্স নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মালিক গোলাম সরোয়ার বাদলের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।
মামলার কথা জানিয়ে পটুয়াখালী এলজিইডি কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী জি এম শাহাবুদ্দিন বলেন, বিষয়টি জেলা প্রশাসন, পুলিশ সুপার ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অবহিত করা হয়েছে।
মামলার বিবরণে উপজেলা প্রকৌশলী মো. নাজিম উদ্দীন উল্লেখ করেন, পাঙ্গাশিয়া ইউনিয়নের পাগলা নদীর ওপর ৯০ মিটার দীর্ঘ একটি গার্ডার সেতু নির্মাণকাজের ঠিকাদারের প্রতিনিধি গোলাম সরোয়ার বাদল কয়েকজন সহযোগীসহ রোববার দুপুর ১২টার দিকে ওই নির্মাণকাজের চূড়ান্ত বিলের একটি আবেদন নিয়ে আসেন। তখন বিলের বিষয়টি জানার জন্য উপ-সহকারী প্রকৌশলী আব্দুস সালামকে জিজ্ঞাসা করলে তিনি জানান, ঠিকাদার ও এলজিইডি কর্তৃপক্ষের যৌথ পরিমাপের পর চূড়ান্ত বিল দেওয়ার নির্দেশনা আছে।
মামলার বিবরণে নাজিম উদ্দীন আরও বলেন, 'পরিমাপের কথা বলতেই বাদল উত্তেজিত হয়ে আমাকে গালিগালাজ করতে থাকেন। টেবিলে রাখা গ্লাস থেকে আমার মুখে পানি ছুঁড়ে মারেন। উপ-সহকারী প্রকৌশলী সালাম এই ঘটনার প্রতিবাদ করলে বাদল তাকেও চড় মারেন। আমাকেও শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয়।'
এ বিষয়ে দুমকী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হারুন অর-রশিদ হাওলাদার জানান, এলজিইডির পক্ষ থেকে তাকে বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে। পরবর্তী উপজেলা পরিষদের সভায় বিষয়টি আলোচনা করা হবে।
দুমকী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আবদুস সালাম মামলা হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, 'তদন্তসাপেক্ষে এ ব্যাপারে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আল ইমরানের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে।'
এ ব্যাপারে অভিযুক্ত ঠিকাদার গোলাম সরোয়ার বাদলের বক্তব্য, 'ওই দপ্তরে আমাদের ঠিকাদারি কাজের ১ কোটি ৪০ লাখ টাকার বিল বকেয়া রয়েছে। বিলের জন্য উপ-সহকারী প্রকৌশলী আব্দুস সালাম আমার কাছে ১০ লাখ টাকা ঘুষ দাবি করেন। ঘুষের টাকা না দেওয়ায় সে আমার আমার বিল আটকে দেয়। এ নিয়ে কথা কাটাকাটি হয়েছে। কিন্তু আমি কাউকে লাঞ্ছিত করিনি।'
তবে ঘুষ দাবি করার বিষয়টি অস্বীকার করেন প্রকৌশলী আব্দুস সালাম।