পাওনা টাকা চাওয়ায় গরম পানি ছুঁড়ে দোকানদারকে ঝলসে দেওয়ার অভিযোগ

নিজস্ব সংবাদদাতা, নোয়াখালী

পাওনা টাকা চাওয়ায় লক্ষ্মীপুরে গরম পানি ছুঁড়ে শারীরিক প্রতিবন্ধী চা দোকানদার আলমগীরকে ঝলসে দিয়েছেন স্থানীয় জহির আহম্মেদ রিপন ভূঁইয়া। রিপন লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার হামছাদী গ্রামের বাসিন্দা। তিনি নিজেকে আওয়ামী লীগ নেতা পরিচয় দিলেও, দলে তার কোনো পদ নেই বলে জানিয়েছে পুলিশ।

গতকালের এ ঘটনায় আজ সোমবার বিকেলে রিপনের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন দোকানদার আলমগীর হোসেনের স্ত্রী রোকেয়া বেগম।

পুলিশ অবশ্য রোববার দিবাগত রাতেই লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার উত্তর হামছাদী ইউনিয়নের হামছাদী গ্রাম থেকে রিপনকে আটক করে।

লক্ষ্মীপুর সদর মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. মমিনুল হক দ্য ডেইলি স্টারকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আলমগীর রায়পুর উপজেলার বামনীর সাইচা গ্রামের বাসিন্দা ও কাজিরদিঘীরপাড়ে তার একটি চায়ের দোকান আছে। রিপন ভূঁইয়া প্রায়ই ওই দোকানে এসে খেয়ে টাকা দিতেন না। রোববার সন্ধ্যায় দোকানে এলে আলমগীর তার কাছে টাকা চান। রিপন টাকা দিতে অস্বীকার করেন।

এ সময় দুই জনের মধ্যে কথা কাটাকাটি শুরু হয় এবং এক পর্যায়ে রিপন চুলায় থাকা গরম পানিসহ চায়ের কেটলি আলমগীরের শরীরে ছুঁড়ে মারেন। এতে আলমগীরের শরীরের বিভিন্ন অংশ ঝলসে যায়। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে সদর হাসপাতালে নিয়ে যায়।

জানতে চাইলে লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. আনোয়ার হোসেন দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'গরম পানিতে আলমগীরের শরীরের বেশ কিছু জায়গা ঝলসে গেছে। তিনি এখানে চিকিৎসাধীন আছেন। অবস্থা আগের চেয়ে ভালো।'

পুলিশ কর্মকর্তা মো. মমিনুল হক ডেইলি স্টারকে বলেন, 'রিপনকে রোববার রাতে আটক করা হয়। সোমবার বিকেলে মামলার পর তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। মঙ্গলবার সকালে তাকে আদালতে হাজির করা হবে।'

'গ্রেপ্তার রিপন নিজেকে আওয়ামী লীগ নেতা দাবি করলেও তার কোন পদ নাই। তবে তিনি আওয়ামী লীগের সমর্থক বলে জানা গেছে,' যোগ করেন তিনি।