পুলিশের নির্যাতনে নারীর গর্ভপাতের অভিযোগ
গাজীপুরে থানায় পুলিশের নির্যাতনে ৩ মাসের অন্তঃসত্ত্বা নারীর গর্ভপাতের অভিযোগ উঠেছে। আহত ওই নারী শহীদ তাজউদ্দিন আহমেদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
এ ঘটনায় ৩ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের (জিএমপি) উপকমিশনার (উত্তর) জাকির হোসেন।
তিনি জানান, গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের ডিসি (অ্যাস্টেট অ্যান্ড ডেভলপমেন্ট) মিজানুর রহমানকে প্রধান করে তদন্ত কমিটি গঠন করেছে নগর পুলিশ। কমিটিতে অন্য দুই সদস্য হলেন অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার খাইরুল ইসলাম, সহকারী পুলিশ কমিশনার রিপন চন্দ্র সরকার।
আগামী সোমবার তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার তারিখ বলে জানান তিনি।
ভুক্তভোগী নারী আরও অভিযোগ করেছেন, হাসপাতালের ওয়ার্ডে তিনি না চাইলেও তাকে গত ৫ দিন ধরে পুলিশি পাহারা দেওয়া হচ্ছে। মা, বোন ও স্বামী ছাড়া কাউকে অনুমতি ছাড়া দেখা করতে দেওয়া হচ্ছে না।
ভুক্তভোগী নারী গত ২১ বছর যাবত পরিবার নিয়ে কাশিমপুর এলাকায় বসবাস করছেন বলে জানা গেছে।
ভুক্তভোগী নারী জানান, '৬ মাস আগে গাজীপুর মেট্রোপলিটনের (জিএমপি) কাশিমপুর থানায় পর্নোগ্রাফির অভিযোগে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে একটি মামলা করেন তিনি। ওই মামলায় পুলিশ ফরেনসিক প্রতিবেদন প্রাপ্তির কথা জানিয়ে তাকে দুজন সাক্ষীর নাম দিতে বলেন। গত ১ মার্চ দুপুরে কাশিমপুর থানায় তিনি সাক্ষী হিসেবে তার মা ও বোনের নাম দিতে যান। সেখানে তাকে নাম দেওয়ার জন্য নারী কনস্টেবল রুমার কাছে পাঠানো হয়। তিনি সাক্ষী হিসেবে তাদের নাম লিখলেও তাদের ঠিকানা লেখেননি। বার বার ঠিাকানা লিখতে অনুরোধ করা হলেও না লেখায় একসময় বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। এসময় কনস্টেবল ওই নারীকে পাশের দেয়ালের সাথে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেন বলে অভিযোগ করেন।'
তিনি বলেন, 'বাসায় ফিরলে নাক দিয়ে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ ও পেটে ব্যথার কারণে স্বজনেরা তাকে গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দিন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। পরদিন ২ মার্চ তার গর্ভপাত হয়।'
গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দিন আহমেদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. রফিকুল ইসলাম বলেন, 'গত ১ মার্চ মঙ্গলবার রাত সোয়া ৯টার দিকে ওই নারী হাসপাতালে ভর্তি হন। তার নাকে হালকা আঘাত ছিল। পরদিন তার গর্ভপাত হয়। কী কারণে গর্ভপাত হয়েছে তা বলা যাচ্ছে না।'
এ বিষয়ে কাশিমপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাহবুব এ খোদা জানান, নারী কনস্টেবলের সাথে ওই ঘটনা নিয়ে তদন্ত চলছে। থানায় ওই নারীর আরেকটি মামলাও আছে।
হাসপাতালে পুলিশি পাহারা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের (জিএমপি) উপকমিশনার (উত্তর) জাকির হোসেন জানান, হাসপাতালের ওয়ার্ডে ওই নারীর অনুরোধেই পুলিশ প্রোটেকশনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তিনি না চাইলে প্রোটেকশন সরিয়ে নেওয়া হবে।
অভিযোগ নিয়ে কনস্টেবল রুমার বক্তব্য জানতে একাধিকবার ফোন কল করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।