পোশাককর্মীকে অ্যাসিড নিক্ষেপকারী গ্রেপ্তার

নিজস্ব সংবাদদাতা, মানিকগঞ্জ

মানিকগঞ্জের সাটুরিয়ায় পোশাক কারখানার এক নারী কর্মীকে অ্যাসিড ঝলসে দেওয়ার মামলায়  আসামি নাঈম মল্লিককে (৩০) গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব-৪।

গতকাল মঙ্গলবার রাতে জেলা সদরের সাকরাইল এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

এ দিকে অ্যাসিড সন্ত্রাসের শিকার ওই পোশাককর্মীর শারীরিক অবস্থা এখনও আশঙ্কাজনক বলে চিকিৎসকেরা ভুক্তভোগী পরিবারকে জানিয়েছেন। তার দুই হাতের অস্ত্রোপচার করা হয়েছে। আসামির সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করেছেন ভুক্তভোগী পরিবার।

এজাহার এবং ভূক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা গেছে, প্রায় দেড় বছর আগে মানিকগঞ্জ সদরের বেতিলা গ্রামের নাঈম মল্লিকের সঙ্গে সাটুরিয়া উপজেলার ধানাকোড়া ফেরাজিপাড়া গ্রামের আবদুস সাত্তারের মেয়ে সাথীর বিয়ে হয়। মাদকসেবী হওয়ায় নাঈম ঠিকমতো কাজ করতেন না। যৌতুকের জন্য সাথীকে মারধর করতেন। প্রায় ৪ মাস আগে তাদের বিবাহবিচ্ছেদ হয়। এরপর সাথী ঢাকার ধামরাইয়ের একটি পোশাক কারখানায় কাজ শুরু করেন। সম্প্রতি নাঈম সাথীকে উত্ত্যক্ত করতে শুরু করেন। গত শুক্রবার কারখানা বন্ধ থাকায় সাথী বাবার বাড়িতেই ছিলেন। রাতে মা ও ছোট বোনের সঙ্গে ঘুমিয়ে পড়েন। রাত প্রায় ১টার দিকে ঘরের ভাঙা জানালা দিয়ে ভেতরে ঢুকে নাঈম সাথীকে অ্যাসিড ছোড়েন। অ্যাসিডে মুখ, গলা ও হাত ঝলসে যায়।

এরপর রাতেই সাথীকে জেলা সদরের ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তবে তার শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় চিকিৎসকের পরামর্শে শনিবার দুপুরে তাকে ঢাকার শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় গত শনিবার সাথীর মামা লাল মিয়া নাঈম মল্লিককে আসামি করে সাটুরিয়া থানা মামলা করেন।

আজ বুধবার দুপুরে ভূক্তভোগী সাথীর চাচা মোখলেস মিয়া বলেন, 'অ্যাসিডে আমার ভাগ্নি সাথীর দুই হাতের আঙুলগুলো বাঁকা হয়ে গেছে। মুখমণ্ডল ও গলা পুড়ে গেছে। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের চিকিৎসকরা সাথীর দু্ই হাতের অস্ত্রোপচার করেছেন। তার শারীরিক অবস্থা এখনও আশঙ্কাজনক বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন।'

র‌্যাব-৪-এর সিপিসি-৩-এর কোম্পানি কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কমান্ডার আরিফ হোসেন বলেন, 'ঘটনার পরপরই আসামি নাঈম আত্মগোপন করেন। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে গ্রেপ্তার এড়াতে তিনি ছদ্মবেশে দ্রুত স্থান পরিবর্তন করতে থাকেন। পরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গতকাল মঙ্গলবার রাত ৮টার দিকে জেলা সদরের সাকরাইল এলাকা থেকে আসামিকে করা হয়। আজ সকালে তাকে সাটুরিয়া থানার পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।'

সাটুরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ আশরাফুল আলম বলেন, 'আসামিকে আদালতে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে।'

এ দিকে অ্যাসিড সন্ত্রাসের শিকার সাথীর মা জুলেখা বেগম আসামির সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। তিনি বলেন, 'যৌতুকের জন্য নির্যাতন করায় বাধ্য হয়ে বিবাহবিচ্ছেদের পর মেয়েকে বাড়িতে নিয়ে আসেন। এরপর অ্যাসিডে তার মেয়েকে ঝলসে দেওয়া হয়েছে। তার মেয়ে এখনও মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছে।'