প্রধানমন্ত্রীকে হত্যাচেষ্টায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামি গ্রেপ্তার

স্টার অনলাইন রিপোর্ট

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যাচেষ্টা মামলায় ফায়ারিং স্কোয়াডে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামি মো. আজিজুল হক রানাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

২০০০ সালে প্রধানমন্ত্রীকে হত্যাচেষ্টায় দায়ের হওয়া মামলার বিচারে রানাকে ফায়ারিং স্কোয়াডে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়। গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর খিলক্ষেত বাজার মসজিদের সামনে থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিটের (সিটিটিসি) ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম বিভাগ।

rana.jpg
গ্রেপ্তারের পর পুলিশ হেফাজতে মো. আজিজুল হক রানা। ছবি: সংগৃহীত

সিটিটিসি প্রধান মো. আসাদুজ্জামান আজ সংবাদ সম্মেলনে বলেন, মো. আজিজুল হক রানা ওরফে শাহনেওয়াজ ওরফে রুমানকে গ্রেপ্তারের সময় তার কাছ থেকে জিহাদি বই, ২টি মোবাইল ফোন, পেনড্রাইভ ও কম্পিউটারের হার্ডডিস্ক উদ্ধার করা হয়।

আজিজুল হক রানা সিটিটিসির প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছেন, তিনি ১৯৮৭ সালে গাজীপুরের শ্রীপুরে জামিয়া আনোয়ারিয়া মাদ্রাসায় নূরানী বিভাগে ভর্তি হন এবং সেখান থেকে হরকাতুল জিহাদের সক্রিয় সদস্য মুফতি হান্নানের অনুসারী মাওলানা আমিরুল ইসলামের সংস্পর্শে আসেন।

আজিজুল হক রানা সংগঠনে যোগ দেওয়ার পর অন্য শিক্ষার্থীসহ প্রশিক্ষণ নেন। তিনি বোমা তৈরি, আত্মরক্ষাসহ বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণ নেন।

rana.jpg
মো. আজিজুল হক রানার ব্যবহৃত ড্রাইভিং লাইসেন্স। ছবি: সংগৃহীত

২০০০ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ তার সফরসঙ্গীদের হত্যার উদ্দেশ্যে কোটালীপাড়ার শেখ লুৎফর রহমান সরকারি আদর্শ কলেজ মাঠে অবস্থিত সভামঞ্চের পাশে মাটির নিচে ৪০ কেজি ওজনের বোমা এবং হেলিপ্যাডের পাশে মাটির নিচে ৭৬ কেজি ওজনের বোমা পুঁতে রাখা হয়। মুফতি হান্নানের সঙ্গে বোমা পুঁতে রাখার দায়িত্বে ছিলেন আজিজুল হক রানা। ঘটনাটি প্রকাশ পেলে বোমা ২টি উদ্ধারের পর আজিজুল হক কোটালীপাড়া থেকে পালিয়ে ঢাকায় চলে আসেন এবং মাওলানা আমিরুল ইসলামের সঙ্গে দেখা করেন।

আজিজুল হক দীর্ঘ ২১ বছর বিভিন্ন ছদ্মপেশার আড়ালে নিজেকে আত্মগোপন করে রাখেন এবং অত্যন্ত গোপনে সাংগঠনিক কার্যক্রম চালিয়ে যান। তিনি নিজেকে লুকিয়ে রাখতে টেইলারিং, মুদি দোকানদার, বই বিক্রেতা, ড্রাইভার এবং সর্বশেষ প্রিন্টিং ও স্ট্যাম্পপ্যাড বানানোর কাজ করতেন।