বিদেশগামী যাত্রীদের করোনা পরীক্ষার ফল জালিয়াতি করে কোটিপতি

স্টার অনলিইন রিপোর্ট

বিদেশগামী যাত্রীদের করোনা পরীক্ষার ফল জালিয়াতির মাধ্যমে গত ১০ মাসে প্রায় এক হাজারের অধিক বিদেশগামী যাত্রীর কাছে জনপ্রতি ১০-১৫ হাজার করে প্রায় এক কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন মো. সবুজ মিয়া। সেই টাকা দিয়ে গ্রামে একটি বাড়িও করেছেন তিনি।

আরেক প্রতারকচক্রের সদস্য কাজী মো. বেলাল হোসেন বিদেশ থেকে এসে করোনা পরীক্ষার ফল জালিয়াতির মাধ্যমে প্রায় ৬ শতাধিক বিদেশগামী যাত্রীদের কাছ থেকে জনপ্রতি ১০-১৫ হাজার করে প্রায় ৫০ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন।

বিদেশগামী যাত্রীদের করোনা পরীক্ষার নেগেটিভ ফল প্রাপ্তির আশ্বাস দিয়ে কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়া প্রতারক চক্রের ১৪ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব।

র‌্যাবের মিডিয়া শাখার পরিচালক খন্দকার আল মইন দ্য ডেইলি স্টারকে এ তথ্য জানিয়েছেন।

274230084_323534502918857_1046973841589886906_n.jpg
ছবি: সংগৃহীত

তিনি জানান, করোনার ভূয়া রিপোর্ট ও এসএমএস প্রদান করে বিদেশগামী যাত্রীদের কাছে বিপুল পরিমান অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং প্রতারকদের আইনের আওতায় আনার জন্য র‌্যাব গোয়েন্দা নজরদারী বৃদ্ধি করে। এরই ধারাবাহিকতায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গতকাল রাতে র‌্যাব-১১ এর একাধিক আভিযানিক দল প্রথমে কুমিল্লার কোতয়ালী থানাধীন এলাকায় অভিযান চালিয়ে মো. জসিম উদ্দিন (২২) ও মো. সুলতান মিয়াকে (১৯), গ্রেপ্তার করে। পরবর্তীতে তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর ও রাজধানী ঢাকার সায়দাবাদ, রমনা ও মতিঝিল এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে মো. বেলাল হোসেনকে (৩১), গ্রেপ্তার করা হয়। বেলালের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ঢাকার মতিঝিল এলাকা হতে চক্রের সক্রিয় সদস্য মো. আবুল হোসেন (২৪), মো. আবদুল নুর (২১) মো. আলফাজ মিয়া (১৯) মো. শামিম (৩২), মো. আহাম্মদ হোসেন (১৯), গ্রেপ্তার করা হয়।

তিনি আরও জানান, তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মোবাইল সিমের যোগানদাতা মো. ইমরান উদ্দিন মিলনকে (১৯), নোয়াখালী থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরবর্তীতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জেলায় অভিযান চালিয়ে চক্রের অন্যতম সদস্য মো. সবুজ মিয়া (২৭) মো. আব্দুর রশিদ (২৮) আব্দুল করিম চৌধুরী (৩২) মো. আঙ্গুর মিয়া (২৫) এবং মো. আলমগীর হোসেনকে (২০), গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে প্রায় ৭ লাখ টাকা, প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত ১২০টি সিমকার্ড, সিম সক্রিয় করার ১টি ফিঙ্গার প্রিন্ট মেশিন, ১টি ট্যাব, ৩২টি মোবাইল, ১টি পাসপোর্ট, নোটবুক এবং চক্রের সদস্যদের বেতনের হিসাব বিবরণী জব্দ করা হয়।

প্রতারক চক্রের মূলহোতা বেলাল প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানান, তিনি ২০২১ সালের মার্চে মধ্যপ্রাচ্যে যাওয়ার জন্য কুমিল্লা জেলার একটি হাসপাতালে করোনা টেস্ট করার পর ফল নিয়ে প্রতারিত হন। প্রকৃত ফলাফল পেয়ে বিদেশে যান। পরে তিনি নিজেই এই প্রতারণার পথ বেছে নেন। প্রথমে বিদেশে বসে সবুজ মিয়ার সহায়তায় তিনি এসব করতেন। পরে সবুজকে বিশ্বাস না করতে পেরে নিজেই দেশে এসে করোনা টেস্টের ফলাফল জালিয়াতির মাধ্যমে কয়েক লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন।

গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।