বেআইনি সুদের কারবারের তথ্য পেতে জেলা-উপজেলায় অভিযোগ বাক্স স্থাপনের নির্দেশ
অননুমোদিত আর্থিক ও ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠান এবং সুদের কারবারিদের সম্পর্কে তথ্য পেতে দেশের সব জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে অভিযোগ বাক্স স্থাপনের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।
এক রিট আবেদনের শুনানিকালে আজ মঙ্গলবার বিচারপতি আবু তাহের মো. সাইফুর রহমান ও বিচারপতি এ কে এম জহিরুল হকের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।
এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে দেশের সব জেলার জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারদের নোটিশ দিতে বাংলাদেশ ব্যাংককে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
সুপ্রিম কোর্টের মুখপাত্র মো. সাইফুর রহমান দ্য ডেইলি স্টারকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, 'এ বিষয়ে আজকের ও আগের নির্দেশনা মেনে ৬০ দিনের মধ্যে আদালতে একটি সম্পূর্ণ প্রতিবেদন দাখিল করার জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংককে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।'
তিনি জানান, বাংলাদেশ ব্যাংক আজ হাইকোর্ট বেঞ্চে একটি কমপ্লায়েন্স রিপোর্ট জমা দিয়েছে।
রিপোর্টে বলা হয়, অননুমোদিত আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং অর্থ ঋণ কার্যক্রম পর্যবেক্ষণের জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংক ১৯টি দল গঠন করেছে।
সাইফুর রহমান বলেন, 'বৈধ লাইসেন্স নেই এমন আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও ঋণদাতাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিতে বাংলাদেশ ব্যাংক কয়েকটি জেলার প্রশাসনের কাছ থেকে ইতোমধ্যে তথ্য পেয়েছে।'
তিনি জানান, ক্ষুদ্রঋণ ব্যবসা চালানোর অনুমতি চেয়ে কয়েকটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের করা রিট পিটিশনের শুনানির জন্য হাইকোর্ট বেঞ্চ আগামী ২০ এপ্রিল তারিখ নির্ধারণ করবেন।
অননুমোদিত আর্থিক ও ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম অবিলম্বে বন্ধ করে তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নিতে গত বছরের সেপ্টেম্বরে হাইকোর্ট সরকারকে নির্দেশ দেন।
এ ধরনের অননুমোদিত আর্থিক ও ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম তদন্তের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংককে একটি বিশেষ কমিটি গঠন করার আদেশও দেওয়া হয়েছিল।
দেশে অননুমোদিত অর্থঋণ ব্যবসা নিষিদ্ধ করতে সরকারের প্রতি নির্দেশনা চেয়ে এ রিট আবেদন করা হয়েছিল।
সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন গত বছরের ৭ সেপ্টেম্বর জনস্বার্থে পিটিশনটি দাখিল করেছিলেন।
রিট আবেদনে তিনি অর্থ, স্বরাষ্ট্র, আইন ও সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সচিব, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, পুলিশের মহাপরিদর্শক, দেশের ৬৪টি জেলার জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারকে বিবাদী হিসেবে উল্লেখ করেন।