বোয়ালমারীতে ওসি-এসআইয়ের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ আদালতে
ফরিদপুরে বোয়ালমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নূরুল আলম (৫৫) ও ওই থানার উপপরিদর্শক (এসআই) উত্তম কুমার সেনের (৫০) বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ তুলে আদালতে আবেদন করেছেন এক ব্যবসায়ী। বুধবার ফরিদপুরের ৭ নম্বর আমলি আদালতে এ অভিযোগ দেওয়া হয়।
অভিযোগকারী মো. আতিয়ার রহমান ওরফে নান্টু (৫০) উপজেলার দাঁদপুর ইউনিয়নের চিতার বাজার এলাকার বাসিন্দা এবং পেশায় একজন ব্যবসায়ী।
তার আইনজীবী লুৎফর রহমান ওরফে পিলু দ্য ডেইলি স্টারকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, 'অভিযোগটি সত্য না মিথ্যা, আদালত তা নিশ্চিত হতে পুলিশ ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) তদন্ত করতে বলেছেন। তদন্তে অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হলে এটি মামলায় পরিণত হবে। সত্য প্রমাণিত না হলে অভিযোগটি খারিজ হয়ে যাবে।'
আদালতে করা অভিযোগে বলা হয়, মো. আতিয়ার রহমান ২০০০ সালে বোয়ালমারীর পৌর এলাকার ওয়াপদার পাশে ১০ দশমিক ৫০ শতাংশ জমি কেনেন এবং ২ শতাংশ জমির উপর দোকান তৈরি করে হার্ডওয়ারের ব্যবসা করছিলেন।
তার সঙ্গে সোতাশী এলাকার বাসিন্দা ২ ভাই মো. ইয়াকুব হোসেন (৩০) ও মো. বেলায়েত হোসেনের (৩৫) জমি নিয়ে বিরোধ চলছিল। ২০২১ সালের ২৫ নভেম্বর ওই ২ ভাই ওই জমিতে নির্মিত গুদাম ঘর দখলের চেষ্টা করলে আতিয়ার রহমান বোয়ালমারী থানায় একটি সাধারন ডায়েরি (জিডি) করেছিলেন।
জিডির পর তিনি ওসির কক্ষে গেলে ওসি তার কাছে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করেন এবং ওইদিন তিনি ওসিকে ৫০ হাজার টাকা দিয়েছিলেন বলে আদালতে দেওয়া অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
অভিযোগে আরও বলা হয়, চলতি ২২ ফেব্রুয়ারি ওই দুই ভাই গুদামের তালা ভেঙে সিমেন্টের বস্তা ঢুকানোর চেষ্টা করেন। আতিয়ার বিষয়টি ওসিকে জানালে তিনি আবার ৫০ হাজার টাকা দাবি করেন।
আতিয়ার টাকা দিতে অস্বীকার করলে ওসি মামলার হুমকি দেন এবং এসআই উত্তম তাকে মাধরর করে থানা থেকে বের করে দেন।
পরে আতিয়ার পুলিশ সুপার, ডিআইজি ঢাকা রেঞ্জ, পুলিশ মহাপরিদর্শক ও পুলিশ হেড কোয়াটারে লিখিত অভিযোগ করেন।
আদালতে করা অভিযোগে তিনি বলেন, 'স্থানীয়ভাবে ও বিভাগীয় ঊর্ধ্বর্ধতন কর্মকর্তাদের মাধ্যমে এ ব্যাপারে কোনো সুরাহা না হওয়ায় তিনি এ অভিযোগ দায়ের করছেন।'
আদালতের বিচারক অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তরুণ বাছাড় অভিযোগটির বিষয়ে সরেজমিনে তদন্ত করে প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলে পিবিআইকে ২৬ মের মধ্যে প্রতিবেদন দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।
আদালতে করা এ অভিযোগের বিষয়ে ফরিদপুরের পুলিশ সুপার মো. আলিমুজ্জামান বুধবার সন্ধ্যায় এক প্রেস ব্রিফিংয়ে বলেন, আতিয়ার রহমান গত ৬ মার্চ তার কাছে এ বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ দেন। ৭ মার্চ একজনকে তদন্তকারী কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।
ওই তদন্ত কর্মকর্তা আতিয়ার রহমানসহ ২১ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেছেন।
তদন্ত চলমান অবস্থায় আদালতে একই বিষয়ে অভিযোগ দেওয়ায় উদবেগ প্রকাশ করেছেন এসপি।