ভাঙ্গায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে ২ পক্ষের সংঘর্ষে আহত ২৫

নিজস্ব সংবাদদাতা, ফরিদপুর

ফরিদপুরের ভাঙ্গায় দুই পক্ষের সংঘর্ষে ২৫ জন আহত হয়েছেন। এ সময় ঘরবাড়ি, দোকান, মোটরসাইকেল ও পিকআপ ভাঙচুর করা হয়। বিভিন্ন বাড়ি ঘর থেকে পেঁয়াজের বীজসহ মালামাল লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে।

শনিবার সকাল ৭টার দিকে উপজেলার ঘারুয়া ইউনিয়নের গংগাধরদী গ্রামে ওই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, ঘারুয়া ইউনিয়নের গংগাধরদী গ্রামে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে ২ পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন বিরোধ চলছিল। বিরোধে এক পক্ষের নেতৃত্ব দেন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি মতিয়ার রহমান। অপর পক্ষের নেতৃত্ব দেন আওয়ামী লীগ সমর্থক মান্নান মোল্লা। তারা দুই জনই ফরিদপুর-৪ (ভাঙ্গা, সদরপুর, চরভদ্রাসন) আসনের স্বতন্ত্রদলীয় সংসদ সদস্য মজিবুর রহমান চৌধুরী ওরফে নিক্সনের সমর্থক।

গত শুক্রবার গংগাধরদী গ্রামের মৃত চুন্নু মুন্সীর কুলখানি উপলক্ষে তার পরিবার দুপুরের খাবারের আয়োজন করে। অনুষ্ঠানে তিনি গ্রামের দুই পক্ষের লোকদের দাওয়াত দেন।

দাওয়াত খেয়ে বাড়ি ফেরার পথে মান্নান মোল্লার পক্ষের ইয়াছিন নামক এক ব্যক্তিকে মতিয়ারের পক্ষের লোকজন মারধর করে। এ নিয়ে গ্রামে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। শুক্রবার সন্ধ্যার পরে দুই পক্ষের সংঘর্ষে কমপক্ষে ৫ জন আহত হন।

ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করে আজ শনিবার সকাল ৭টার দিকে ২ পক্ষের শতাধিক লোক ঢাল, সড়কিসহ দেশিয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। এ সময় আরও ২০ জন আহত হন। 

সংঘর্ষের সময় মান্নান মোল্লা, মামুন শেখ, শাজাহান শেখ, জলিল চোকদারের বাড়িসহ উভয় পক্ষের বেশ ১২টি বাড়ি, সুজন চোকদারের মোটরসাইকেল ও পিকআপ, জসিম মিয়ার দোকান ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। পরে ভাঙ্গা থানার পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

ক্ষতিগ্রস্ত শাজাহান শেখ জানান, তার বাড়ি থেকে কমপক্ষে ২০ লাখ টাকা মূল্যের ২৫ মন পেঁয়াজের বীজ লুট করে নিয়ে গেছে।     

ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা যায়, শনিবার সংঘর্ষের ঘটনায় ২৫ জনকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। তাদের মধ্যে গুরুতর আহত ৩ জনকে ফরিদপুরের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তারা হলেন জসিম শেখ (৩২), লুৎফর মিয়া (৪৫), সুজন মোল্লা (২৪) ।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সেলিম রেজা জানান, এলাকার আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করেই ওই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

খবর পেয়ে পুলিশ এলাকায় গিয়ে সংঘর্ষ থামিয়েছে। শনিবার দুপুর পর্যন্ত এ ব্যাপারে থানায় কেউ অভিযোগ করেনি, তিনি যোগ করেন।