মানিকগঞ্জে অ্যাসিডদগ্ধ পোশাকশ্রমিক সাথীর মৃত্যু
১২ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর সাবেক স্বামীর ছুড়ে দেওয়া অ্যাসিডে ঝলসে যাওয়া মানিকগঞ্জের পোশাকশ্রমিক সাথী আক্তার মারা গেছেন।
গতকাল বুধবার রাত ১২টার দিকে ঢাকার শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। সাথীর বড় ভাই সোহেল দ্য ডেইলি স্টারকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
গত ২৮ জানুয়ারি রাতে সাথীর সাবেক স্বামী নাঈম মল্লিকের ছোড়া অ্যাসিডে সাথীর ২ হাত, গলা ও মুখমণ্ডল ঝলসে যায়। ওই রাতেই সাথীকে মানিকগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তবে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে পরে তাকে বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়।
এ ঘটনার নাঈম মল্লিককে আসামি করে সাটুরিয়া থানায় মামলা করেন সাথীর মামা লাল মিয়া। ৪ দিন পর র্যাব আসামিকে আটক করে।
মামলার এজাহার ও ভুক্তভোগীর পরিবারের সদস্যদের সূত্রে জানা যায়, প্রায় দেড় বছর আগে মানিকগঞ্জ সদরের বেতিলা গ্রামের নাঈম মল্লিকের সঙ্গে সাটুরিয়া উপজেলার ধানাকোড়া ফেরাজিপাড়া গ্রামের আবদুস সাত্তারের মেয়ে সাথীর বিয়ে হয়। মাদকসেবী হওয়ায় নাঈম ঠিকমতো কাজ করতেন না। যৌতুকের জন্য সাথীকে মারধর করতেন। প্রায় চার মাস আগে তাদের বিবাহবিচ্ছেদ হয়।
এরপর সাথী ঢাকার ধামরাইয়ের একটি পোশাক কারখানায় কাজ শুরু করেন। সম্প্রতি নাঈম সাথীকে উত্ত্যক্ত করতে শুরু করেন। গত ২৮ জানুয়ারি কারখানা বন্ধ থাকায় সাথী বাবার বাড়িতেই ছিলেন। রাতে মা ও ছোট বোনের সঙ্গে ঘুমিয়ে পড়েন। রাত প্রায় ১টার দিকে ঘরের ভাঙা জানালা দিয়ে ভেতরে ঢুকে নাঈম সাথীর দিকে অ্যাসিড ছোড়েন।
সাথীর মা জুলেখা বেগম আসামির সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।