মৌলভীবাজারে হাতি দিয়ে চাঁদাবাজি, মাহুতকে অর্থদণ্ড
মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলায় হাতি নিয়ে গ্রামে গ্রামে গিয়ে চাঁদা তোলার অভিযোগ উঠেছে। চাঁদাবাজির অভিযোগে এরই মধ্যে এক মাহুতকে অর্থদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।
জুড়ী উপজেলার বেলাগাঁও গ্রামের আব্দুস শহীদ জানান, হাতি দেখে শিশুরা ভয় পাচ্ছে। এতদিন হাতি দিয়ে বাজারে চাঁদাবাজি হতো। চাঁদাবাজরা এখন গ্রামে গ্রামে হাতি নিয়ে ঘুরছে। চাঁদা না দিলে নানাভাবে ভয় দেখাচ্ছে, বিরক্ত করছে। উপায় না পেয়ে আমিও চাঁদা দিয়েছি।
এই গ্রামেরই আরেক বাসিন্দা ফারুক আহমদ বলেন, এই গ্রামে ৫০টি বাড়ি থেকে কয়েক হাজার টাকা চাঁদা তোলা হয়েছে। আমাদের ঘর থেকে ৪০ টাকা চাঁদা দেওয়ায় সে নেয়নি। পরে ১০০ টাকা দিতে হয়েছে।
শুধু বেলাগাঁও গ্রামেই নই জুড়ী উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় হাতি দিয়ে চাঁদাবাজি চলছে বলে জানান পরিবেশকর্মী খোরশেদ আলম।
তবে মাহুতের দাবি, হাতির খাবার জোগাড় করতে সাহায্য নেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, 'চাঁদা তো না, সাহায্য নিচ্ছি। সবাই ইচ্ছা মতো হাতিকে উপহার হিসেবে টাকা দিচ্ছে। কেউ খুশি হয়ে টাকা দিলে সেটা কীভাবে চাঁদাবাজি হয়।'
সহকারী কমিশনার (ভূমি) রতন কুমার অধিকারী দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, লোকালয়ে গণ উপদ্রব সৃষ্টির দায়ে দণ্ডবিধির ২৯০ ধারা অনুযায়ী মাহুত শরীফ আহমেদকে ২০০ টাকা জরিমানা করা হয়।
জরিমানার অংক সম্পর্কে তিনি বলেন, দণ্ডবিধিতে এর বেশি জরিমানার বিধান নেই।
জুড়ী থানার ওসি সঞ্জয় দেবনাথ বলেন, জরিমানা আদায় করে মাহুতকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের সিলেটের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, যার হাতি সে খাওয়াবে। এই কথা বলেইতো দায়িত্ব নিয়েছে। তাহলে কেন মানুষের কাছে হাত পাতবে। এভাবে হাতি দিয়ে মালিক আয় করে। যে হাতিটি দিয়ে চাঁদাবাজি চলছে তার লাইসেন্স নেই।