যশোর জেনারেল হাসপাতালের পরিত্যক্ত লাশকাটা ঘর যেন মাদকসেবীদের অভয়ারণ্য

নিজস্ব সংবাদদাতা, বেনাপোল

যশোর জেনারেল হাসপাতালের পুরোনো লাশকাটা ঘর এখন মাদকসেবীদের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে। প্রতিদিন সন্ধ্যার পর সেখানে মাদকসেবীদের আড্ডা শুরু হয় বলে হাসপাতালের কর্মী ও স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন। এ অবস্থায় সন্ধার পর হাসপাতালের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন তারা।

হাসপাতালের একাধিক কর্মী দ্য ডেইলি স্টারকে জানান, হাসপাতালটির পূর্ব পাশে পুরোনো লাশকাটা ঘরটি দীর্ঘদিন আগেই পরিত্যক্ত ঘোষণা করে কর্তৃপক্ষ। এরপর থেকে অব্যবহৃত ভবনটিতে ঝোপঝাড় তৈরি হয়। সৃষ্টি হয়েছে ভুতুড়ে পরিবেশের। সন্ধ্যার পর ভবনের চারপাশ অন্ধকারাচ্ছন্ন হয়ে যায়।

আর তখন শহরের চিহ্নিত মাদকসেবীরা সেখানে আড্ডা জমায়। তাদের ব্যাপারে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষও কিছু বলতে চান না।

যশোর জেনারেল হাসপাতালের ডোম অরুন কুমার ডেইলি স্টারকে বলেন, 'পুরোনো লাশকাটা ঘরগুলোতে কোনো জানালা-দরজা নেই। ভেতরে কেউ গেলে বাইরে থেকে সহজে বোঝা যায় না। ফলে মাদকসেবীরা সহজেই নিরাপদ মনে করে।'

পরিত্যক্ত ঘরগুলো ভেঙে ফেলার জন্য কর্তৃপকে বারবার বলা হলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি বলে জানান তিনি।

হাসপাতালের আরেক ডোম বিপুল দাস জানান, মাদকসেবীরা সবাই বহিরাগত। সন্ধ্যার পরে লাশকাটা ঘরের আশেপাশে কেউ না যাওয়ায়, তারা বাইরে থেকে নেশাদ্রব্য এনে পরিত্যক্ত ঘরে গিয়ে সেবন করে।

কর্তৃপক্ষকে অনেকবার বিষয়টি জানানো হলেও কোনো সুফল পাওয়া যায়নি বলে জানান তিনি।

হাসপাতাল সংলগ্ন ঘোপ জেলরোড এলাকার বাসিন্দা সালমা বেগম দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'সন্ধ্যার পরে লাশকাটা ঘরের পাশে কেউ না থাকলেও, পরিত্যক্ত ঘরের ভেতরে কিছু যুবককে ঘোরাফেরা করতে দেখা যায়। বিশেষ করে এলাকার কিছু উচ্ছৃঙ্খল নেশাগ্রস্ত ছেলে এখানে ঘোরাফেরা করে।'

হাসপাতালের পরিবেশ রক্ষার্থে পরিত্যক্ত ভবনগুলো দ্রুত ভেঙে ফেলার দাবি জানান তিনি।

হাসপাতালে ভর্তি এক রোগীর স্বজন আইয়ুব হোসেন ডেইলি স্টারকে বলেন, 'হাসপাতালে রোগী ভর্তি থাকার সুবাদে প্রায় সপ্তাহ খানেক এখানে আছি। সন্ধ্যার পরপরই কিছু মাদকাসক্ত এখানে আসা যাওয়া করে। তারা কাউকে তোয়াক্কা করেনা। তাদের বিষয়ে পুলিশ সদস্যসহ ডোমদের জানিয়েছি। কোনো সমাধান পাইনি।'

জানতে চাইলে যশোর জেনারেল হাসপাতালের সুপার ডা. আখতারুজ্জামান বলেন, 'পরিত্যক্ত লাশ কাটা ঘরে মাদকাসক্তদের আড্ডা বসে কি না, আমার জানা নেই। তবে সন্ধ্যার পরে নির্জন ওই এলাকা জনমানব শুন্য হয়ে পড়ে।'

'পরিত্যক্ত ঘরগুলো ভেঙে ফেলার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বেশ কয়েকবার জানানো হয়েছে। আজও কোনো সমাধান হয়নি,' যোগ করেন তিনি।