রাজবাড়ীতে স্কুল শিক্ষকের ‘রহস্যজনক’ মৃত্যু, স্বামী কারাগারে

নিজস্ব সংবাদদাতা, ফরিদপুর

রাজবাড়ীতে একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকের 'রহস্যজনক' মৃত্যু হয়েছে। তবে, ওই শিক্ষকের পরিবারের দাবি তাকে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় নিহতের ভাইয়ের দায়ের করা হত্যা মামলায় তার স্বামীকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত।

নিহত স্কুল শিক্ষক পূরবী ইসলাম রাজবাড়ী সদর উপজেলার কোলা গ্রামের ফরহাদ হোসেনের স্ত্রী। তিনি কোলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। ফরহাদও একটি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক।

শুকবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে পুলিশ ওই শিক্ষকের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য রাজবাড়ী সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।

নিহতের ভাই মেহেদী হাসান বলেন, 'তাদের মধ্যে পারিবারিক কলহ ছিল। আমার বোনকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করা হত। প্রায়ই আমার বোনের গায়ে হাত তুলতেন। আমাদের ধারণা, আমার বোনকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন আছে।

তিনি আরও বলেন, 'তাকে মারধর ও শ্বাসরোধ করে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। কারণ, আত্মহত্যার কথা বলা হলেও সেখানে কোনো চেয়ার ছিল না। আমার ভাগনের সঙ্গেও তার মায়ের বনিবনা হতো না। ভাগনের কথাবার্তাও সন্দেহজনক।'

তিনি অভিযোগ করেন, 'এ ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টাও করা হয়েছে। আমাদের মামলা না করতে বলা হয়েছে।'

রাজবাড়ী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মাদ শাহাদাত হোসেন বলেন, 'রাত ১২টায় মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। মরদেহ মাটিতে নামানো ছিল। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ রাজবাড়ী সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর আসল কারণ জানা যাবে।'

তিনি আরও বলেন, 'নিহত শিক্ষকের ভাই মেহেদী হাসান শনিবার বিকেলে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় তার স্বামী ফরহাদকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।'

রাজবাড়ী সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক শেখ মোহাম্মদ আবদুল হান্নান বলেন, 'নিহতের শরীরে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন না পেয়ে হত্যা নাকি আত্মহত্যা তা নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছে না।'