রায় শুনে কাঠগড়ায় বসে পড়েন লিয়াকত ও প্রদীপ

নিজস্ব প্রতিবেদক, কক্সবাজার

সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মো. রাশেদ খান হত্যা মামলার রায়ে কক্সবাজারের টেকনাফ মডেল থানার বরখাস্ত হওয়া ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) প্রদীপ কুমার দাশ ও টেকনাফের বাহারছড়া তদন্তকেন্দ্রের ইনচার্জ পুলিশ পরিদর্শক মো. লিয়াকত আলীকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

আজ সোমবার আজ সোমবার বিকেল ৪টা ২১ মিনিটে কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মদ ইসমাইল এ রায় ঘোষণা করেন।

এজলাশ কক্ষের কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে ছিলেন প্রদীপ ও লিয়াকত। মৃত্যুদণ্ডের রায় শুনে তারা এজলাশ কক্ষের কাঠগড়ায় বসে পড়েন। এ সময় তাদের খুব বিষণ্ণ দেখা গেছে।

এ ছাড়া মামলায় যাবজ্জীবন সাজা পাওয়া ৬ আসামি কান্নাকাটি ও চিল্লাচিল্লি করতে থাকেন এবং চিৎকার করে নিজেদের নির্দোষ দাবি করেন।

আদালতে রায় ঘোষণার পর খালাস পাওয়া ৭ আসামি উল্লাস প্রকাশ করেন। সে সময় তারা একজন আরেকজনকে জড়িয়ে ধরে কান্নাকাটি করেন।

এই মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের প্রধান কৌসুলি (পিপি) ফরিদুল আলম রায় ঘোষণার পর দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'আমাদের রাষ্ট্রপক্ষের প্রত্যাশা ছিল মোট ১৫ জন আসামিরই সর্বোচ্চ সাজা দেওয়া হবে। কিন্তু আদালত সব কিছু বিবেচনায় প্রধান ও দ্বিতীয় আসামি লিয়াকত আলী ও প্রদীপকে কুমারকে সর্বোচ্চ শাস্তি দিয়েছেন। বাকি ৬ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন। এই রায়ে আমরা সন্তুষ্ট।'

রায় ঘোষণার আগে আজ সকাল ৮টা থেকে ১৫ আসামির আত্মীয়-স্বজন আদালত প্রাঙ্গনে উপস্থিত হতে শুরু করেন। রায় ঘোষণার পর তাদের অনেকেই কান্নাকাটি করেন।

কয়েক হাজার মানুষ রায় ঘোষণার আগে আদালত প্রাঙ্গনে জড়ো হন। এ ছাড়া ওসি প্রদীপের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে বিক্ষুব্ধ জনগণের ব্যানারে মানববন্ধন ও স্লোগান দেওয়া হয়। রায়ের পর তাদের অনেকে উল্লাস প্রকাশ করেন।

এ ছাড়া লিয়াকতের ক্রসফায়ারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ সমাবেশের আয়োজন করা হয়।

২০২০ সালের ৩১ জুলাই ঈদুল আজহার আগের রাত সাড়ে ৯টার দিকে কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ সড়কের বাহারছড়া ইউনিয়নের শামলাপুর এপিবিএন চেকপোস্টে পুলিশের গুলিতে নিহত হন অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান।

হত্যাকাণ্ডের ৪ দিন পর ৫ আগস্ট সিনহার বড় বোন শারমিন শাহরিয়ার ফেরদৌস বাদী হয়ে টেকনাফ থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) প্রদীপ কুমার দাশসহ ৯ জনকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন।

মামলায় বাহারছড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা পরিদর্শক লিয়াকত আলীকে প্রধান আসামি করা হয়। প্রদীপ কুমার দাশকে ২ নম্বর ও বাহারছড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে কর্মরত উপপরিদর্শক (এসআই) নন্দ দুলাল রক্ষিতকে ৩ নম্বর আসামি করা হয়। আদালত কক্সবাজারের র‍্যাব-১৫-কে মামলাটির তদন্তভার দেন।

৭ আগস্ট মামলার আসামি ৭ পুলিশ সদস্য আদালতে আত্মসমর্পণ করেন। পরে তদন্তে নেমে হত্যার ঘটনায় স্থানীয় ৩ বাসিন্দা, আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) ৩ সদস্য ও ওসি প্রদীপের দেহরক্ষীসহ আরও মোট ৭ জনকে গ্রেপ্তার করে র‍্যাব। এরপর ২৪ জুন মামলার চার্জশিটভুক্ত আসামি কনস্টেবল সাগর দেবের আদালতে আত্মসমর্পণের মাধ্যমে আলোচিত এই মামলার ১৫ আসামির সবাই আইনের আওতায় আসে।

এ মামলায় ৪ মাসের বেশি সময় তদন্ত শেষে গত বছরের ১৩ ডিসেম্বর ৮৩ জন সাক্ষীর নামের তালিকাসহ মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা র‍্যাব-১৫ এর জ্যেষ্ঠ সহকারী পুলিশ সুপার মোহাম্মদ খায়রুল ইসলাম আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন। ১৫ জনকে আসামি করে দেওয়া অভিযোগপত্রে সিনহা হত্যাকাণ্ডকে একটি 'পরিকল্পিত ঘটনা' হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।