লালমনিরহাটে ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে রাস্তার গাছ কাটার অভিযোগ
লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার নওদাবাস ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান একেএম ফজলুল হক ও তার সমর্থকদের বিরুদ্ধে রাস্তার পাশের গাছ কেটে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। তবে অভিযুক্ত ইউপি চেয়ারম্যানের দাবি, গাছগুলো স্থানীয় বিদ্যুৎ অফিসের ঠিকাদারের লোকজন কেটেছেন।
স্থানীয়রা জানান, হাতীবান্ধা উপজেলার নওদাবাস ইউনিয়নে কেতকীবাড়ি বাজার-ডাকালীবান্ধা সড়কের এক পাশের প্রায় ২ লাখ টাকা মূল্যের বিভিন্ন প্রজাতির ৫৮টি গাছ কাটা হয়েছে। এ বিষয়ে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণে উপজেলা প্রশাসনের কাছে দাবি জানিয়েছেন তারা।
বৃহস্পতিবার দিনভর ওই রাস্তার পাশে হাতীবান্ধা নর্দান ইলেক্ট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানি (নেসকো) অফিসের কর্মচারীরা নতুন বিদ্যুৎ সংযোগের কাজ করেন। বৈদ্যুতিক তার গাছের ডালের সংস্পর্শে আসায় কয়েকটি গাছের ডালপালা কেটে দেন কর্মচারীরা। এসময় ইউপি চেয়ারম্যানের নির্দেশে তার লোকজন ওই রাস্তার পাশের ৫৮টি গাছ কাটেন বলে দাবি স্থানীয়দের। স্থানীয় লোকজন বিক্ষোভ করলে ইউপি চেয়ারম্যান কেটে ফেলা গাছগুলো উদ্ধার করে গ্রাম পুলিশ দিয়ে ইউনিয়ন পরিষদে নিয়ে যান। তবে গাছ কাটার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেননি তিনি।
নওদাবাস ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান একেএম ফজলুল হক দাবি করে দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'বিদ্যুৎ অফিসের লোকজন রাস্তার পাশের গাছগুলো কেটেছেন। পরে খবর পেয়ে গ্রাম পুলিশকে দিয়ে গাছগুলো ইউনিয়ন পরিষদে আনা হয়েছে।'
তিনি এবং তার সমর্থিত লোকজন রাস্তার পাশের গাছগুলো কাটার সঙ্গে জড়িত থাকার বিষয়টি অস্বীকার করেন ইউপি চেয়ারম্যান।
হাতীবান্ধা নর্দান ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানি (নেসকো) লিমিটেডের নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুল মতিন দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'নতুন সঞ্চালন লাইনের জন্য উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় রাস্তার পাশের গাছের ডাল কাটা হয়েছে। কিন্তু, পুরো গাছ কাটার কোন নজির নেই।'
হাতীবান্ধা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাজির হোসেন বলেন, 'গাছ কাটার বিষয়টি শুনেছি। কেউ বেআইনিভাবে রাস্তার গাছ কাটলে তদন্ত করে তাদের বিরুদ্ধে অবশ্যই আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।'