শরীয়তপুরে মানহানি মামলায় ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর বিরুদ্ধে সমন
গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের চেয়ারম্যান ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর বিরুদ্ধে শরীয়তপুরে মানহানির মামলা করা হয়েছে।
আজ বুধবার বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের শরীয়তপুর জেলা সংসদের সভাপতি সাইফ রুদাদ শরীয়তপুর জেলা ও দায়রা জজ আদালতে মামলাটি করেন।
দুপুর ৩টার দিকে জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক প্রশান্ত কুমার বিশ্বাস মামলাটি আমলে নিয়ে আসামিকে হাজির হওয়ার সমন জারি করেন।
বাদী পক্ষের কৌসুলি অ্যাডভোকেট আজিজুর রহমান রোকন দ্য ডেইলি স্টারকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী গত ২ ফেব্রুয়ারি ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এনডিএফ) আয়োজিত এক প্রতিবাদ সভায় ছাত্র ইউনিয়ন ও যুদ্ধাপরাধী কাদের মোল্লাকে জড়িয়ে বিভ্রান্তিকর বক্তব্য প্রদান করেন। তিনি বক্তব্যে বলেন, যুদ্ধাপরাধী কাদের মোল্লা ছাত্র ইউনিয়ন করতেন।'
আজিজুর রহমান রোকন বলেন, 'এই ধরনের বিভ্রান্তিকর বক্তব্য ইতিহাস বিকৃতির সামিল। আমরা মনে করি, এই ধরনের বক্তব্যে ছাত্র ইউনিয়নের মানহানি হয়েছে। তাই আমরা আদালতে ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর বিরুদ্ধে মানহানি মামলা দায়ের করেছি। আমাদের আর্জি আমলে নিয়ে আদালত তার বিরুদ্ধে সমন জারি করেছেন।'
মামলার বাদী সাইফ রুদাদ ডেইলি স্টারকে বলেন, '১৯৬৮ সালে কাদের মোল্লা তার ছাত্রজীবনে ফরিদপুরে থাকাবস্থায় জামায়াতে ইসলামীর তৎকালীন ছাত্র সংগঠন ছাত্র সংঘের প্রথম সারির নেতা ছিলেন। তিনি কখনোই ছাত্র ইউনিয়নের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না। কাদের মোল্লা ১৯৭১ সালের যুদ্ধাপরাধী প্রমাণিত হওয়ায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ তাকে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করলে তা কার্যকরও করা হয়। কাদের মোল্লার মতো একজন ঘৃণিত ব্যক্তি ১৯৭১ সালে ছাত্র ইউনিয়ন করতেন মর্মে জাফরুল্লাহ চৌধুরী যে বক্তব্য দিয়েছেন, তাতে বাংলাদেশ এবং ছাত্র ইউনিয়নের ইতিহাস বিকৃত হয়েছে। তিনি উদ্দেশ্য-প্রণোদিতভাবে ছাত্র ইউনিয়নকে হেয় করার জন্য এই বক্তব্য প্রদান করেছেন। বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন ১৯৫২ সালে প্রতিষ্ঠিত একটি প্রগতিশীল ছাত্র রাজনৈতিক সংগঠন। জাফরুল্লাহ চৌধুরীর বক্তব্যের মাধ্যমে ছাত্র ইউনিয়নের মানহানি হওয়ায় তার শাস্তি দাবি করছি।'