শরীয়তপুরে স্কুলশিক্ষার্থী শাকিল হত্যা মামলায় ২ আসামির মৃত্যুদণ্ড

নিজস্ব সংবাদদাতা, শরীয়তপুর

শরীয়তপুরে স্কুলশিক্ষার্থী শাকিল (১৫) হত্যা মামলা ২ জনের মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। মঙ্গলবার দুপুরে শরীয়তপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল আদালতের বিচারক আ. ছালাম খান এই রায় ঘোষণা করেন।

এ সময় বিচারক মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্ত এই ২ আসামিকে ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড এবং অনাদায়ে ৬ মাসের কারাদণ্ডের আদেশ দেন। এছাড়া, আরও ৪ জনকে এই মামলা থেকে খালাস দেন।

নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল আদালতের বিশেষ কৌঁসুলি (পিপি) অ্যাডভোকেট ফিরোজ আহমেদ দ্য ডেইলি স্টারকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, 'নিহত শাকিল মাদবর (১৫) জাজিরা উপজেলার হাজী কালাই মোড়লের কান্দি গ্রামের সালাম মাদবরের ছেলে। সে স্থানীয় অ্যাম্বিশন কিন্ডার গার্টেন অ্যান্ড হাইস্কুলের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্ত ২ জন আসামি হলেন-  সাকিব মাদবর বাবু (২২) ও ইমরান মোড়ল (২০)।'

তিনি জানান, ২০২০ সালের ২৫ জুন দণ্ডপ্রাপ্ত ২ জন আসামি শাকিলকে কৌশলে অপহরণ করে। এর একদিন পর ২৬ জুন শাকিলের চাচা মো. শাহাজুল ইসলামের কাছে ৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। মুক্তিপণ দিতে রাজি না হলে শাকিলকে হত্যা করে পদ্মা সেতু সংলগ্ন, রেল সেতুর ৩৯ নং পিলারের পূর্ব পাশে ভরাট বালুর নিচে লাশ মাটিচাপা দিয়ে রাখে। এরপর জাজিরা থানা পুলিশ ২৬ জুন দণ্ডপ্রাপ্ত ২ আসামিকে গ্রেপ্তার করেন এবং তাদের স্বীকারোক্তিতে একই বছরের ২৭ জুন ভোরে শাকিলের মরদেহ উদ্ধার করে।

তিনি আরও জানান, ২০২০ সালের ১৭ ডিসেম্বর আদালতে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। এই হত্যা মামলায় ৭ জন আসামি ছিলেন। ১৮ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আদালত শাকিব ওরফে বাবু ও ইমরান মোড়লকে মৃত্যুদণ্ড এবং ৪ জনকে খালাস দিয়েছেন। আরেক আসামি বাবু ফরাজীর আইনজীবী হাইকোর্টে আপিল করায় তার মামলার কার্যক্রম স্থগিত করা হয়। স্থগিত আদেশ শেষ হলে তার বিরুদ্ধে এই মামলার রায় হবে। আদালত ২ জনের মৃত্যুদণ্ড দেওয়ায় আমরা মনে করি ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।'

মামলার বাদী নিহত শাকিলের বাবা সালাম মাদবর দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'আদালত ২ জনকে মৃত্যুদণ্ড। আমরা রায়ে খুশি। কিন্তু, আরও ৪ আসামি খালাস পেয়েছেন। তারাও আমার ছেলের হত্যার সঙ্গে জড়িত। আমি এবং আমার পরিবার চায় তাদেরও সর্বোচ্চ শাস্তি হোক। তাই আমি খালাস আদেশের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করব।'

আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট আলমগীর হোসেন হাওলাদার বলেন, 'তারা এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত ছিল না। আমরা ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হয়েছি। তাই আমরা এই আদেশের বিরুদ্ধে ৭ দিনের মধ্যে উচ্চ আদালতে আপিল করব।'