সংরক্ষিত বনের মাটি লুট-গাছ নষ্ট, ৩ জনের বিরুদ্ধে বন বিভাগের জিডি
পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় গঙ্গামতি এলাকায় বন বিভাগের সংরক্ষিত বনাঞ্চলের মাটি লুট এবং প্রায় ৫ হাজার গাছ বিনষ্টের অভিযোগে ৩ জনের বিরুদ্ধে সাধারণ ডায়েরি করেছে বন বিভাগ।
বন বিভাগ জানিয়েছে, একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে এ ধরনের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। এ পর্যন্ত চক্রটি ১ একর এলাকার মাটি লুট করায় বনে পুকুর আকৃতির গভীর খাদ তৈরি হয়েছে।
যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তারা হলেন- কুয়াকাটা সংলগ্ন চর চাপলী এলাকার শফিজুল ইসলাম (৫৫), সিরাজপুর এলাকার জামাল হোসেন (৪৮) ও আলীপুর এলাকার মো. রাব্বি (৪৫)।
পটুয়াখালী উপকূলীয় বন বিভাগের কলাপাড়া উপজেলার মহিপুর রেঞ্জ কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ গত ৩ ফেব্রুয়ারি মহিপুর থানায় জিডিটি করেন।
জিডিতে উল্লেখ করা হয়, শফিজুল, জামাল ও রাব্বি চর চাপলী এলাকার বন বিভাগের সংরক্ষিত বনাঞ্চলে মাটিকাটার মেশিন দিয়ে মাটি কেটে বিক্রি করেছেন। তারা ২০২০-২১ সালে ৫০ হেক্টর জমির ম্যানগ্রোভ প্রজাতির প্রায় ১ একর জমির ৫ হাজার গাছও ধ্বংস করেছেন। এ ছাড়া, ৫০-৬০ বছরের পুরনো গাছ মাটিকাটা মেশিন দিয়ে ধ্বংস করে মাটি বিক্রি করেছেন তারা।
চক্রটি মাটি কেটে বনের মধ্যে পুকুরের মত ৮-১০ ফুট গভীর খাদের তৈরি করেছে। এতে ওই বনভূমির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। বনবিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা চক্রটিকে বাধা দিলে তারা নানাভাবে ভয়-ভীতি দেখায় ও প্রাণনাশের হুমকি দেয় বলেও জিডিতে উল্লেখ করা হয়।
জিডিটি তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণের অনুমতি চেয়ে ৪ ফেব্রুয়ারি মহিপুর থানার এস আই মাহবুব আলম খান কলাপাড়া সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পাঠান। আদালত থেকে নির্দেশনা পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান মহিপুর থানার ওসি খন্দকার মো. আবুল খায়ের।
এ ব্যাপারে পটুয়াখালী বন বিভাগের সহকারি বন সংরক্ষক মো. তারিকুল ইসলাম বলেন, 'চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে সংরক্ষিত বনাঞ্চলের গাছ, মাটি লুটের সঙ্গে জড়িত। তাদের মধ্যে শফিজুলের বিরুদ্ধে এর আগেও গাছ লুটের ঘটনায় পৃথক ২টি মামলা হয়েছে, যা আদালতে বিচারাধীন।'
বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতির (বেলা) বরিশাল বিভাগীয় সমন্বয়কারী লিংকন বায়েন সাংবাদিকদের বলেন, 'বন উজাড় করে বনের ভেতর থেকে মাটি বিক্রি করা বন ও পরিবেশ আইনে কোনোভাবেই সমর্থনযোগ্য নয়। পরিবেশ-প্রকৃতি ধ্বংস করে বনের ভেতরে পুকুর বা দিঘি কাটা আইনবিরোধী কাজ। এ অপকর্মে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে।'
এ ব্যাপারে অভিযুক্ত শফিজুলের সঙ্গে একাধিকবার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। অন্য ২ অভিযুক্ত জামাল হোসেন ও রাব্বি এ ব্যাপারে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।