সন্তানের ওপর জোর করে কিছু চাপিয়ে দেওয়া উচিত নয়: হাইকোর্ট

স্টার অনলাইন রিপোর্ট

সন্তানদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোর করে তাদের ওপর অভিভাবকদের কোনো কিছু চাপিয়ে দেওয়া উচিত নয় বলে এক পর্যবেক্ষণে হাইকোর্ট বলেছেন। এতে সন্তানদের মনে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে উল্লেখ করেন হাইকোর্ট।

রোববার ফারাহ মাহবুব ও বিচারপতি এস এম মনিরুজ্জামানের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ পর্যবেক্ষণ দেন।

রাজধানীর উত্তর মুগদা এলাকার একটি বাড়িতে ১৯ বছর বয়সী কানাডিয়ান তরুণীকে সম্মতির বিরুদ্ধে তার বাবা-মা প্রায় ১০ মাস আটকে রাখার ঘটনাকে চ্যালেঞ্জ করে করা রিট আবেদনের শুনানিতে হাইকোর্ট বেঞ্চ এসব পর্যবেক্ষণ দেন।

আদালত বলেন, পিতামাতা ও সন্তানদের মধ্যে দায়িত্বশীল, বন্ধুত্বপূর্ণ এবং সুন্দর সম্পর্ক থাকা উচিত। সন্তানদের নিরাপত্তা ও সঠিক মানসিক বিকাশ নিশ্চিত করতে অভিভাবকের উচিত তাদের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক তৈরি করা।

হাইকোর্ট বলেন, অভিভাবকদের মনে রাখতে হবে যে তারা বৃদ্ধ হলে সন্তানরাই তাদের দেখাশোনা করবে।

ঢাকায় কানাডিয়ান হাইকমিশনের অনুরোধে মানবাধিকার সংস্থা আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক) এবং বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্রাস্ট (ব্লাস্ট) এই রিট আবেদন করেছিল।

ওই তরুণীকে মুক্তি দিতে এবং তাকে কানাডা যাওয়ার অনুমতি দেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশনা চেয়ে আদালতের কাছে এ রিট করা হয়েছিল। 

আদালত মঙ্গলবার পর্যন্ত রিটের শুনানি মুলতবি করে বলেন, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত মেয়েটি অভিভাবকের কাছে থাকবে।

আদালত অবশ্য মেয়েটিকে মোবাইল, ল্যাপটপ ও ইন্টারনেট সংযোগ দিতে অভিভাবকের প্রতি নির্দেশ দিয়েছেন যেন সে তার বন্ধুদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারে।

এর আগের দিন হাইকোর্ট বেঞ্চ ওই তরুণীর বক্তব্য শুনেছেন।

কানাডার টরন্টো ইউনিভার্সিটিতে অধ্যয়নরত মেয়েটিকে রোববার বিকেলে মুগদা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার নেতৃত্বে তার বাবা-মা এবং পুলিশ সদস্যরা হাইকোর্টে হাজির করেন।

রোববারের শুনানিতে কানাডিয়ান হাইকমিশনের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

অভিভাবকের পক্ষে আইনজীবী মো. অজিউল্লাহ এবং রিট আবেদনকারীর আইনজীবী জেড আই খান পান্না ও সারা হোসেন আদালতে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন।

একই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গত ৫ এপ্রিল হাইকোর্ট বেঞ্চ পুলিশ ও অভিভাবককে রোববার ওই তরুণীকে আদালতে হাজির করার নির্দেশ দিয়েছিলেন।

একইসঙ্গে ইচ্ছার বিরুদ্ধে ওই তরুণীকে আটকে রাখা কেন অবৈধ হবে না তা জানতে চেয়ে সরকার ও অভিভাবকদের উদ্দেশে রুল জারি করেন।

জেড আই খান পান্না এর আগে দ্য ডেইলি স্টারকে বলেছিলেন, ওই তরুণী জন্মসূত্রে কানাডার নাগরিক এবং তার বাবা মা বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত কানাডিয়ান নাগরিক।

বাবা-মা মেয়েকে দাদা-দাদির সঙ্গে দেখা করতে বাংলাদেশে নিয়ে এসেছিল।

মেয়েটি কানাডায় ফিরে যেতে চাইলেও বাবা-মা তাকে ঘরে আটকে রাখে এবং তার মোবাইল ফোন কেড়ে নেয় বলে জানান আইনজীবী জেড আই খান পান্না।