সাবেক এমপি আউয়ালসহ ১৫ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র

স্টার অনলাইন রিপোর্ট

রাজধানীর পল্লবী এলাকায় ছেলের সামনে বাবাকে হত্যা মামলায় লক্ষ্মীপুর-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য এম এ আউয়ালসহ ১৫ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র জমা দিয়েছে পুলিশ।

গতকাল সোমবার ঢাকা চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পুলিশের গোয়েন্দা শাখার পরিদর্শক ও এই মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সৈয়দ ইফতেখার হোসেন অভিযোগপত্র জমা দেন।

অভিযোগপত্রে আউয়ালকে হত্যাকাণ্ডের 'নাটেরগুরু' উল্লেখ করা হয়েছে। বাকি অভিযুক্তরা হলেন—সুমন বেপারী (৩৩), মোহাম্মদ তাহের (৪৭), মো. গোলাম কিবরিয়া খান (৪৯), মোহাম্মদ মুরাদ (২৩), টিটু শেখ ওরফে টিটু (৩১), মোহাম্মদ রকি তালুকদার (২৫), নূর মোহাম্মদ হাসান (১৯), মোহাম্মদ শরীফ (২০), ইকবাল হোসেন (২৩), মো. তরিকুল ইসলাম ইমন (২৩), তুহিন মিয়া (১৯), মো. হারুনুর রশিদ (১৯), মো. শফিকুল ইসলাম শফিক (২৫) ও ইব্রাহিম সুমন (২১)।

এদের মধ্যে শফিক ও ইব্রাহিম পলাতক। আওয়াল এবং বাকি ১৩ জনকে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী আগেই গ্রেপ্তার করেছে। বর্তমানে তারা হাজতে আছেন।

তদন্তকালে সুমন, রকি, মুরাদ, নূর, শরীফ ও ইকবাল বিভিন্ন সময় ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে জবানবন্দি দিয়েছেন।

অভিযোগপত্রে তদন্তকারী কর্মকর্তা উল্লেখ করেছেন, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে। তাদের বিচারের আওতায় আনা প্রয়োজন। একইসঙ্গে তিনি পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে পরোয়ানা দেওয়ার জন্য আদালতে আবেদন করেন।

হত্যাকাণ্ডে সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ না পাওয়ায় ১৩ জনের নাম বাদ দিয়ে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়েছে। আরও ২ অভিযুক্ত মনির ও মানিক আইন-শৃঙ্খলা রক্ষকারী বাহিনীর সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছেন।

আদালত সূত্র জানিয়েছে, আগামী ১৭ ফেব্রুয়ারি অভিযোগপত্রের শুনানি হতে পারে।

গত বছরের ১৬ মে ব্যবসায়ী মো. শাহীনুদ্দিনকে তার ৭ বছর বয়সী ছেলের সামনে হত্যা করা হয়। ১৭ মে শাহীনুদ্দিনের মা আকলিমা বাদী হয়ে পল্লবী থানায় ২০ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতপরিচয় ১৩ থেকে ১৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন।

তদন্তকালে সুমন বেপারী আদালতে তার জবানবন্দিতে বলেন, এমএ আউয়ালের নির্দেশে হত্যার উদ্দেশ্যে তিনি ১২ আততায়ীকে ভাড়া করেছিলেন।

সুমন আরও বলেন, একটি প্রকল্পের জমি নিয়ে ২০০৪ সাল থেকে আউয়ালের সঙ্গে শাহীনুদ্দিনের বিরোধ চলে আসছিল। জমি দখলে নিতে না পেরে তিনি শাহীনুদ্দিনকে হত্যার পরিকল্পনা করেন।

হত্যাকাণ্ডের ৩ থেকে ৪ দিন আগে সুমন ও তাহেরের উপস্থিতিতে কলাবাগান অফিসে আউয়াল হত্যার পরিকল্পনা করেন। হত্যার পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সুমনকে তিনি ১০ থেকে ১২ জন আততায়ী ভাড়া করতে বলেন। নির্দেশনা অনুযায়ী, ওই বছরের ১৫ মে মিরপুর-১২ নম্বর সেক্টরে আততায়ীদের সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন বলে জবানবন্দিতে স্বীকার করেন সুমন।

পরের দিন তারা মিরপুর-১২ নম্বর সেক্টরে গিয়ে শাহীনুদ্দিনকে বিরোধ নিষ্পত্তি করে নিতে বলেন। বিকেল আনুমানিক ৪টার দিকে শাহীনুদ্দিন যখন তার ৭ বছর বয়সী ছেলেকে সঙ্গে নিয়ে ঘটনাস্থলে আসেন, সুমনের নেতৃত্বে আততায়ীরা তার ওপর ধারালো অস্ত্র দিয়ে হামলা চালায়। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।