স্ত্রীকে হত্যার পর আত্মহত্যা বলে প্রচার, স্বামীর মৃত্যুদণ্ড

নিজস্ব সংবাদদাতা, নোয়াখালী

লক্ষ্মীপুরের কমলনগরে স্ত্রী রুবিনা আক্তারকে মাথায় আঘাতের পর শ্বাসরোধে হত্যার দায়ে স্বামী মো. লিটনের বিরুদ্ধে ফাঁসির আদেশ দিয়েছেন আদালত।

বুধবার জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মোহাম্মদ রহিবুল ইসলাম এ রায় দেন।

দণ্ডপ্রাপ্ত লিটন উপজেলার চরকাদিরা ইউনিয়নের উত্তর চরকাদিরা গ্রামের বাসিন্দা।

লক্ষ্মীপুর জজ আদালতের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) জসিম উদ্দিন দ্য ডেইলি স্টারকে এ সব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, হত্যার পর লিটন স্ত্রী রুবিনার গলায় ফাঁস দিয়ে গাছের সঙ্গে ঝুলিয়ে রাখে এবং আত্মহত্যা করেছে বলে প্রচার করেছে।

পরে ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে এটি শ্বাসরোধে হত্যা বলে জানা যায়।

লিটনের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আদালত তার মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেন।

আদালত সূত্র জানায়, ২০১৮ সালের ১৩ এপ্রিল উত্তর চরকাদিরা গ্রামের একটি আম গাছ থেকে রুবিনার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

এটি আত্মহত্যা উল্লেখ করে তার শ্বশুর চৌধুরী মাঝি কমলনগর থানায় লিখিতভাবে জানায়।

থানার তৎকালীন ওসি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করেন এবং উপপরিদর্শক (এসআই) মোশারফ হোসেনকে তদন্তের দায়িত্ব দেন।

সুরতহালে রুবিনার মরদেহের ঠোঁটসহ মুখের বিভিন্ন অংশে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়।

পরে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয় এবং একই বছর ২৯ মে ময়নাতদন্তের চূড়ান্ত প্রতিবেদন পুলিশের হাতে আসে।

এতে দেখা যায়, রুবিনাকে মাথায় আঘাতের পর শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে।

ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও তদন্ত শেষে এসআই মোশারফ বাদী হয়ে লিটনের বিরুদ্ধে ৮ জুলাই থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।

ঘটনার পর থেকেই লিটন পলাতক ছিলেন। তদন্ত শেষে একই বছর লিটনের বিরুদ্ধে আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়।

দীর্ঘ শুনানি ও ১২ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে আজ আদালত এ রায় দেন। রায়ের সময় লিটন আদালতে উপস্থিত ছিলেন।