৩ হাজার টাকার বদলা নিতে হত্যা করা হয় শিশু হুরায়রাকে

নিজস্ব সংবাদদাতা, কুষ্টিয়া

দুই বছর আগে ঘটে যাওয়া একটি ঘটনায় ৩ হাজার টাকা ক্ষতির বদলা নিতে অপহরণের পর চুয়াডাঙ্গায় তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী আবু হুরায়রাকে হত্যা করা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ। অভিযুক্ত আসামিকে গ্রেপ্তারের পর তাকে জিজ্ঞাসাবাদে এ তথ্য জানা গেছে বলে জানিয়েছেন চুয়াডাঙ্গার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) আবু তারেক।

আজ সোমবার বিকেলে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা জানান।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) আবু তারেক বলেন, প্রথমে শিশুটিকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয় একটি কবরস্থানে। সেখানে শ্বাসরোধে হত্যার পরে সাজানো হয় অপহরণ নাটক।

তিনি বলেন, ২ বছর আগে এক ঈদের রাতে উচ্চ শব্দে সাউন্ড বক্স বাজাচ্ছিলেন মোমিন ও তার বন্ধুরা। এতে চরম বিরক্ত হন আশেপাশের বাড়ির লোকজন। এগিয়ে যান আবু হুরুায়রার বাবা আব্দুল বারেক। তারা নিষেধ না শুনলে তিনি সেই সাউন্ড বক্সের টেবিলে লাথি মারেন। এতে সাউন্ড বক্সটির ক্ষতি হয়। গানও বন্ধ হয়ে যায়। এতে মোমিনের তিন হাজার টাকা ক্ষতি হয়। এই ঘটনায় ক্ষিপ্ত মোমিন প্রতিশোধ নিতে সুযোগ খুঁজতে থাকে। টার্গেট করে আব্দুল বারেকের ছেলে আবু হুরায়রাকে।

১৯ জানুয়ারি বিকালে আবু হুরায়রা নিজ বাড়ি থেকে একই গ্রামের প্রাইভেট টিউটর রাজিব হক রঞ্জুর কাছে পড়তে যায়। মোমিন তাকে একা পেয়ে তালতলা সরকারি কবরস্থানে নিয়ে হত্যা করে।

চুয়াডাঙ্গা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মহাসিন জানান ছেলের নিখোঁজের বিষয়ে ওই দিনই হুরায়রার বাবা বারেক চুয়াডাঙ্গা সদর থানায় একটি সাধারণ ডায়রি করেন। এরপর ২৬ জানুয়ারি হুরায়রার বাবা একটি চিরকুট পান। সেখানে হুরায়ায়াকে অপহরণ করা হয়েছে জানানো হয় এবং ১০ লাখ টাকা মুক্তিপন দাবি করা হয়। এ ঘটনায় বারেক ৫ জনের নাম উল্লেখ করে সদর থানায় অপহরণ মামলা করেন। তাদের মধ্যে প্রাইভেট শিক্ষক রনজুসহ পাঁচ জনের নাম উল্লেখ করা হয়।

২৯ জানুয়ারি আরও একটি চিরকুট দিয়ে ১০ লাখ টাকা দাবি করা হয়। ১ ফেব্রুয়ারি টেক্সট মেসেজ দিয়ে পুনরায় চাঁদা দাবি করে মোমিন ও তার সহযোগীরা। পরের দিন স্কুলছাত্রের পরিবার মুক্তিপণ বাবদ ৫ লাখ টাকা দিতে চাইলে গত ৪ ফেব্রুয়ারি মুক্তিপণের জন্য ৬ লাখ টাকা দাবি করে অপহরণকারীরা। চিরকুট ও মোবাইল ফোন নম্বর স্কুলছাত্রের পরিবার পুলিশকে দেয়।

ওসি বলেন, রোববার রাতে চুয়াডাঙ্গা সদর থানা পুলিশ তালতলা গ্রামের গোরস্তানপাড়া থেকে শহিদুল ইসলামের ছেলে মোমিনকে আটক করে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে আবু হুরায়রাকে হত্যার পর মরদেহ গুম করার কথা স্বীকার করে।

বিক্ষোভ ও মানববন্ধনে বিচার দাবি

হুরায়রার হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করেছে বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা। সোমবার দুপুরে বিদ্যালয়ের সামনে মানববন্ধনে হত্যাকারীদের ফাঁসির দাবি জানানো হয়।

হুরায়রার বাবা বারেক তার সন্তান হত্যার বিচার চান। তিনি বলেন, এ পৃথিবীতে ওই ছোট ঘটনায় যারা এই নিষ্ঠুর পথ বেছে নেয় তাদের মৃত্যু কামনা করা ছাড়া কিছুই করার নেই।

তালতলা গ্রামের গোরস্থান পাড়ার আব্দুল বারেকের ছেলে আবু হুরায়রা (১১) চুয়াডাঙ্গা ভি জে সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের ৩য় শ্রেণির ছাত্র ছিল। ৬ বোনের একমাত্র ছোট ভাই ছিল হুরায়রা।