অসময়ের বন্যায় ফসলডুবি, ঈদ আনন্দ নেই চরাঞ্চলের মানুষের

এস দিলীপ রায়
এস দিলীপ রায়

উৎসব করে ঈদ-উল-ফিতর উদযাপনের প্রস্তুতি নেই ব্রহ্মপুত্র, তিস্তা, ধরলা, দুধকুমার ও গঙ্গাধর পাড়ের অধিকাংশ মানুষের। ঈদের দিন খাওয়ার যোগানও নেই অনেকের। নতুন পোশাক দূরের কথা সেমাই চিনি কেনার কথাও ভাবতে পারছেন না কেউ কেউ। অসময়ে বন্যায় নদীর বুকে ধানসহ ফসলের ক্ষতি হওয়ায় হতাশ হয়ে পড়েছেন চরের মানুষ। চরাঞ্চলের অনেক পরিবারকে ঋণের টাকায় চলতে হচ্ছে তাই ঈদকে ঘিরে তাদের নেই কোনো আনন্দ।

চরাঞ্চলের কৃষকেরা জানান, গত দুই বছরে করোনা মহামারির জন্য ঈদ যতটা নিরানন্দের ছিল এবার ফসলহানী হওয়ায় তার চেয়ে বেশি কষ্টে আছেন তারা। গেল দু্ই বছর ঈদ চরবাসীর কাছে আনন্দ উৎসব ছিল না। এবার ঈদও তাদের কাছে সেরকমই নিরানন্দের।

লালমনিরহাট সদর উপজেলার তিস্তাপাড় চর গোকুন্ডার কৃষক মেজার উদ্দিন (৬৭) দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ঈদ উদযাপনের কোনো প্রস্তুতি নেই তিস্তাপাড়ের মানুষের। সন্তানরা নতুন পোশাকের জন্য আবদার ও কান্নাকাটি করলেও নিরুপায় বাবা-মা। ঈদের দিন সেমাই চিনি কেনার সামর্থ্যও নেই অনেকের।

কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলার ব্রহ্মপুত্র নদের চর জোরগাছের কৃষক সেকেন্দার আলী মন্ডল (৬৫) বলেন, রোজা রাখছেন ঠিকই। কিন্তু বাহারি আইটেমের ইফতার কখনই জোটে না চরবাসীর ভাগ্যে। চাল ভাজা ভুট্টা ভাজা চিড়া ভাজা দিয়ে চলছে ইফতার। সাধারণ ইফতারও তাদের কাছে স্বপ্নের মতো। সেহরীতেও ভাত জুটলেও তরকারি জোটে না অনেকের ভাগ্যে।

লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলার তিস্তাপাড় চর গোবর্ধানের কৃষক মহির উদ্দিন (৫৬) ডেইলি স্টারকে বলেন, নদীর বুকে লাগানো ফসল ক্ষতি হওয়ায় রোজগার বন্ধ হয়ে গেছে। তাই ধার দেনা অথবা চড়া সুদে ঋণ নিয়ে তাদের চলতে হচ্ছে। অধিকাংশ পরিবারে ঈদ নিয়ে কোন ভাবনা নেই। সরকারিভাবে ১০ কেজি করে চাল দেওয়া হলেও অধিকাংশ চরবাসী তা পাননি।

জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন অফিস সূত্র জানায়, লালমনিরহাট ও কুড়িগ্রামের ১৪টি উপজেলায় চরাঞ্চলে ছয় লাখের বেশি মানুষ বাস করেন। তারা সবাই কৃষি কাজের উপর নির্ভরশীল। ঈদ উপলক্ষে সরকার দুই জেলায় ৬ লাখ ১১ হাজার ৭৯৭টি ভিজিএফ (ভালনেরাবল গ্রুপ ফিডিং) কার্ড দিয়েছেন। এর মধ্যে লালমনিরহাটের ৫টি উপজেলার জন্য ১ লাখ ৪০ হাজার ৯২টি এবং কুড়িগ্রামের ৯টি উপজেলায় ৪ লাখ ৭০ হাজার ৭০৫টি। প্রতি কার্ডে ১০ কেজি করে চাল বিতরণ করা হয়েছে।

কুড়িগ্রাম জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা আব্দুল হাই সরকার জানান, ভিজিএফ-এর চাল বিতরণ সম্পন্ন হয়েছে। অসহায় গরীব দুঃখীরা যাতে ঈদ উদযাপন করতে পারেন সেজন্য সরকারিভাবে এ সহায়তা দেওয়া হয়। তবে চরাঞ্চলের মানুষের জন্য আলাদা কোনো কর্মসুচি নেওয়া হয় না।