‘ঈদের দিন ছওয়াপোয়া মিলি ঘরোত বসি থাকমো, ঘরোত তো খাবার নাই’
অভাবের সংসারে ঈদের আমেজ আসেনি লালমনিরহাটের খেটে খাওয়া মানুষের ঘরে। তাদের চোখেমুখে হতাশা আর বেদনার ছাপ। তাই ঈদ নিয়ে তাদের আলাদা কোনো ভাবনা নেই।
তেমনই একজন দুলাল মিয়া, পেশায় দিনমজুর। তার মধ্যে ঈদের কোনো আমেজ নেই। ঈদ উপলক্ষে পরিবারের জন্য কিছু করতে না পারার বেদনা তাকে কাঁদাচ্ছে।
দেড় মাসে আগেও দুলাল মিয়ার একটি রিকশাভ্যান ছিল। আয় না থাকায় ঋণ করতে হয়েছিল। পরে দেনাদারদের চাপে দুই হাজার চারশ টাকায় বিক্রি করতে হয়েছে ভ্যানটি। তবুও দেনাদারদের ঋণ শোধ করতে পারেননি। এখন দিনমজুরের কাজ করে সংসার চালাতে হচ্ছে। তারপরও প্রতিদিনি কাজ পাওয়া যায় না। পরিবার-পরিজন নিয়ে অনাহারে-অর্ধাহারে দিন কাটছে।
দ্য ডেইলি স্টারকে দুলাল মিয়া বলেন, ‘মোর ঈদ না হোক কোনো দুখখো নাই। মোর ছওয়া দুটাক এ্যালাং কিছু দিবার পাং নাই আর দিবার কোনো মক্তিও নাই এটাই মোর দুখখো।’
‘করুনাভাইরাস হামার হাসি-খুশি-সুখ কারি নিছে,’ যোগ করেন তিনি।
দুলালের সহধর্মিণী মরিয়ম বেগম জানান, করোনা পরিস্থিতিতে আরও বেশি গরিব হয়ে যাওয়ায় কঠিন যন্ত্রণা নিয়ে বাঁচতে হচ্ছে। সন্তানের মুখে একমুঠো ভাত তুলে দিতে বিক্রি করতে হয়েছে ঘরের চালের চারটি টিন। এখন বৃষ্টি এলে রাত জাগতে হয় তার পরিবারকে।
মরিয়ম বেগম বলেন, ‘ছেঁড়া কাপড়চোপড় পরি বেড়বার নাগছি। এ্যালা হামার কামাই নাই। কাপড় কিনি না প্যাটের ভাত যোগাই। হামারগুলার গরিবের জইন্যে ঈদ নাই।’
তিনি আরও বলেন, ‘কী আর করমো। ঈদের দিন ছওয়াপোয়া সবাই মিলি ঘরোত বসি থাকমো। ঘরোত তো খাবার নাই,’ বললেন তিনি।
লালমনিরহাটে তিস্তাপাড়ের রাবেয়া খাতুন, আসমা বেগম, আরজিনা খাতুন ও শরিফা খাতুনদের সংসারের গল্পও দুলাল-মরিয়মের মতো। সংসারে চলছে দুমুঠো খাবারের জন্য হাহাকার। একবেলা খাবার জুটছে তো, আর একবেলা থাকতে হচ্ছে উপোষ।
লালমনিরহাট সদর উপজেলার তিস্তাপাড় কালমাটি গ্রামের কিন্ডারগার্টেনের শিক্ষক নুর আমিন ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘বিত্তশালী ও সরকারি চাকরিজীবী পরিবারের মধ্যে ঈদের আমেজ থাকলেও নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্তের অনেকের মধ্যে কোনো আমেজ নেই।’
লালমনিরহাটরে জেলা আবু জাফর দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘ঈদ উপলক্ষে লালমনিরহাটের পাঁচ উপজেলার এক লাখ ২৫ হাজার পরিবারকে ত্রাণ সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। প্রত্যেক পরিবারকে ১০ কেজি করে চাল দেওয়া হচ্চে।’