কাঁঠালবাড়ি গণহত্যা দিবসে সরকারি উদ্যোগে স্মৃতিস্তম্ভ তৈরির দাবি

এস দিলীপ রায়
এস দিলীপ রায়

কুড়িগ্রামের কাঁঠালবাড়ি গণহত্যা দিবস আজ ৯ জুন। দিনটির স্মরণে মুক্তিযোদ্ধা, শহীদ ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার ও স্থানীয়রা র‌্যালি ও পুষ্পস্তবক অর্পণসহ নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে।

১৯৭১ সালের এই দিনে কুড়িগ্রাম শহর থেকে প্রায় ৮ কিলোমিটার দূরে কাঁঠালবাড়ি বাজার ও আশেপাশের ৬ গ্রামে হানাদার বাহিনীর সদস্যরা স্থানীয় রাজাকার, আলবদর ও দালালদের সহযোগিতায় নৃশংস হামলা চালায়।

তাদের নির্মম হত্যাযজ্ঞে শহীদ হোন ৩৫ নিরস্ত্র-নিরাপরাধ বাঙালি। হানাদারদের লুটপাট ও অগ্নিসংযোগে কাঁঠালবাড়ী এলাকা ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী কয়েকজন দ্য ডেইলি স্টারকে জানান, হানাদার বাহিনী ওই দিন সকালে ৩ দিক থেকে কাঁঠালবাড়ি বাজারে অতর্কিত হামলা চালায়। বাজার ও আশপাশের গ্রামগুলোয় অগ্নিসংযোগ করে। বাজারের শতাধিক দোকানসহ শিবরাম, সর্দারপাড়া, সন্ন্যাসীপাড়া, ফকিরপাড়া, প্রামাণিকটারী ও খামারপাড়া গ্রামের ৫ শতাধিক বাড়িঘরে আগুন দেয়।

kanthalbari_mass_killing_2.jpg
ছবি: স্টার

গুলি করে হত্যার পাশাপাশি অনেককে আগুন পুড়িয়ে চরম পৈশাচিকতা দেখায় হানাদাররা।

স্থানীয় সাংস্কৃতিক সংগঠন 'দিশারী' কয়েকজন শহীদের নাম সংগ্রহ করেছে উল্লেখ করে কাঁঠালবাড়ির বাসিন্দারা অভিযোগ করেন, মুক্তিযোদ্ধা সংসদের উদ্যোগে একটি স্মৃতিসৌধ তৈরি করা হলেও আজও সরকারি উদ্যোগে শহীদদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা ও শহীদ স্মৃতিস্তম্ভ তৈরি হয়নি। শহীদ পরিবারের সদস্যদের পুনর্বাসনও করা হয়নি।

মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কাঁঠালবাড়ী ইউনিয়ন কমান্ডার আব্দুল আউয়াল দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'গণহত্যার স্মৃতি ধরে রাখতে সরকারিভাবে স্মৃতিসৌধ নির্মাণের জোর দাবি জানাচ্ছি। কাঁঠালবাড়িতে নৃশংস গণহত্যার ইতিহাস সবার কাছে তুলে ধরা প্রয়োজন।'