জয়নালের ভাগ্যের পরিবর্তন করে দিলো ডেইলি স্টারের সেই ছবি
কয়েকদিন আগেও চরম দারিদ্রে নির্মম হয়ে ওঠেছিল তিস্তাপাড়ের কৃষক জয়নাল মিয়ার (৪৭) সংসার। তিস্তার ভাঙনে আবাদি জমি, বসতভিটা, ফলের বাগান হারানো জয়নাল অভাবের তাড়নায় দিশেহারা হয়ে পড়েছিলেন। মুখে ছিল না হাসি। ঘরে ছিল না খাবার।
তিস্তার বুকে জেগে ওঠা একখণ্ড জমিতে ফসল উৎপাদন করে বাঁচতে হয় জয়নালকে। গরুর অভাবে পরিবারের লোক দিয়ে টানতে হতো লাঙ্গল ও মই।
এখন তার মুখে হাসি। স্ত্রী শেফালী বেগম, মেয়ে ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী জোনাবি খাতুন, পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী জান্নাতি খাতুন ও ছেলে দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী নয়ন ইসলামের মুখেও হাসি ফুটে উঠেছে।
জয়নাল মিয়া ও তার পরিবারের লোকজনের মুখে হাসি ফুটিয়েছে দ্য ডেইলি স্টারে প্রকাশিত একটি ছবি।
গত ২০ ফেব্রুয়ারি ডেইলি স্টারের প্রথম পাতা জয়নাল মিয়ার কষ্টের জীবন নিয়ে ছবি প্রকাশিত হয়। এরপর তাকে সহযোগিতা করেছেন অনেকে। তিনি পেয়েছেন একটি পাওয়ার টিলার, ৬টি গরু ও নগদ ৪০ হাজার টাকা। তিনি একখণ্ড জমি লিজও নিয়েছেন।
বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি দিয়েছে পাওয়ার টিলার, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী স্থপতি ইয়াফেস ওসমানের দিয়েছেন ২টি গরু, আই ফার্মার লিমিটেড দিয়েছে ২টি গরু ও হাউজ অব মান্নান চেরিটেবল ট্রাস্ট দিয়েছে ২টি গরু আর বিভিন্নজন নগদ অর্থ সহায়তা হিসেবে দিয়েছেন ৪০ হাজার টাকা।
বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব) এটিএম আব্দুল ওয়াহাব ডেইলি স্টারকে বলেন, 'জয়নাল মিয়া পাওয়া টিলার দিয়ে নিজের জমি চাষ করে ফসল ফলাতে পারবেন। এ ছাড়া তিনি তা দিয়ে অন্যের জমি চাষ করে রোজগার করতে পারবেন।'
'ডেইলি স্টারে ছবি দেখে জয়নাল মিয়ার পাশে দাঁড়িয়েছি,' যোগ করেন তিনি।
আই ফার্মার লিমিটেড'র সিইও এন্ড কো-ফাউন্ডার ফাহাদ ইফাজ ডেইলি স্টারকে বলেন, 'জয়নালকে ২টি গরু দেওয়া হয়েছে। তার পাশে দাঁড়াতে পেয়ে আমরা খুশি। ডেইলি স্টারে প্রকাশিত ছবির কারণে এটা করতে পেরেছি।'
লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক আবু জাফর ডেইলি স্টারকে বলেন, 'মন্ত্রী মহোদয়ের পাঠানো টাকায় ২টি গরু কিনে দেওয়া হয়েছে। জয়নাল মিয়ার সন্তানদের পড়াশুনার জন্য জেলা প্রশাসন থেকে আর্থিক সহায়তার প্রস্তুতি রয়েছে।'
জয়নাল মিয়া ডেইলি স্টারকে জানান, তিনি কোনদিনই ভাবেননি ভাগ্যের পরিবর্তন আসবে। যেসব সহায়তা পেয়েছেন তা দিয়ে ঘুরে দাঁড়াতে পারবেন বলে আশা করছেন। তার সংসারে এখন অভাব নেই।
তিনি বলেন, 'পেপারোত হামার কষ্টের ফটোক ছাপা হওয়ার জইন্যে হামার কপাল খুলি গ্যাইছে। মুই ম্যালা কিছু পাইছোং। হামার বেটা-বেটিক ম্যালাগুলা লেখাপড়া কইরবার পাইম এ্যালা।'
তিনি সরকারের কাছে দাবি করে বলেন, 'তিস্তা নদী কোনা কুড়ি দিলে তিস্তাপাড়োত হামারগুলার ম্যালা কাজোত নাগিল হয়। হামার সবারগুলার ভুইগুলা জাগি উঠিল হয় তাতে হামরা ফসল ফলায়া ভালোভাবে চইলবার পাইলোং হয়।'
জয়নাল মনে করেন, 'সরকার যদিল এইকনা কাজ করি দ্যাইল হয় তাক হইলে হামারগুলার আর কোন দুখখো থাকিল না হয়।