ডেইলি স্টারে প্রতিবেদন: স্কুলমাঠ তামাকমুক্ত হওয়ায় খুশি শিক্ষার্থীরা

শিক্ষকরাও ফেলছেন স্বস্তির নিঃশ্বাস
এস দিলীপ রায়
এস দিলীপ রায়

স্কুলমাঠে তামাক পাতা শুকানো ও প্রক্রিয়াজাতের দীর্ঘদিনের সমস্যার অবসান হলো দ্য ডেইলি স্টারের প্রতিবেদনে। স্কুলমাঠ তামাকমুক্ত হওয়ায় খুশি হয়েছেন লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলার দুর্গাপুর গ্রামের দুর্গাপুর উচ্চ বিদ্যালয় ও দুর্গাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ২৫ জন শিক্ষক ও ৫ শতাধিক শিক্ষার্থী।

শিক্ষার্থীরা এখন উৎফুল্ল মন নিয়ে স্কুলমাঠে ছুটোছুটি, খেলাধুলা করছে। তাদের চোখে-মুখে আনন্দের ছাপ। শুধু তাই নয়, স্কুল দুটির শিক্ষকরাও এখন স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছেন।  

দ্য ডেইলি স্টারে প্রকাশিত 'School ground turns tobacco drying field' শিরোনামের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে সারাদেশে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রাঙ্গণে তামাক পাতা শুকানো ও প্রক্রিয়াজাত বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সরকারকে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। সোমবার বিচারপতি ফারাহ মাহবুব ও বিচারপতি এস এম মনিরুজ্জামানের হাইকোর্ট বেঞ্চ স্বপ্রণোদিত হয়ে এ আদেশ দেন। সংবাদটি দ্য ডেইলি স্টার অনলাইনে 'স্কুলমাঠে তামাক, বাতাসে দুর্গন্ধ, ক্লাসরুমে আটকে শিক্ষার্থীরা' শিরোনামে প্রকাশিত হয়।

উচ্চ আদালতের নির্দেশ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই স্থানীয় প্রশাসন শিক্ষকদের নিয়ে দুর্গাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও দুর্গাপুর উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ থেকে তামাক পাতা সরিয়ে স্কুলমাঠ তামাকমুক্ত করেন।

lalmonirhat_tobacco_school-01.jpg
ছবি: স্টার

এ বিষয়ে পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী রোকসানা পারভীন ডেইলি স্টারকে জানায়, এখন তাদের খুব ভালো লাগছে। স্কুলমাঠে কোনো তামাক নেই। কোনো দুর্গন্ধ আর আসে না।

'আমরা সবাই মিলে স্কুলমাঠে খেলাধুলা করতে পারছি। তামাকের দুর্গন্ধ না আসায় ক্লাসেও ঠিকমতো পড়াশুনা করতে পারছি', বলে সে।

চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী মোনারুল ইসলাম ডেইলি স্টারকে জানায়, তারা খুব খুশি। তামাকমুক্ত স্কুলমাঠে খেলাধুলা করতে পারায় খুব আনন্দ হচ্ছে।

অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী শিউলি খাতুন ডেইলি স্টারকে জানায়, কয়েকদিন আগেও তামাকের জন্য তারা খুবই বিরক্ত ছিল। তাদের স্কুলমাঠ এখন তামাকমুক্ত।

তবে স্কুলমাঠের চারদিকে একটি সীমানা প্রাচীর নির্মাণের আবেদন করে এই শিক্ষার্থী।

lalmonirhat_tobacco_school-02.jpg
ছবি: স্টার

দুর্গাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক হাসনা হেনা ডেইলি স্টারকে জানান, তারা এখন স্বস্তিতে নিঃশ্বাস নিতে পারছেন। কয়েক দিন আগেও তামাকের জন্য এটা সম্ভব ছিল না। দীর্ঘদিনের এই সমস্যার অবসান হওয়ায় তারাও খুশি হয়েছেন। শ্রেণীকক্ষে শিক্ষার্থীদের আনন্দের সঙ্গে পাঠদান করতে পারছেন, আর শিক্ষার্থীরাও আনন্দের সঙ্গে পাঠগ্রহণ করছে।

স্কুলের প্রধান শিক্ষক রাজিয়া পারভীন ডেইলি স্টারকে জানান, এই সমস্যার অবসানের জন্য তারা অনেক চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছিলেন। অবশেষে ডেইলি স্টারের প্রতিবেদনে উচ্চ আদালত নির্দেশ দেওয়ায় এর সমাধান হলো। স্কুল দুটির চারদিকে কোনো প্রাচীর না থাকায় এটি অরক্ষিত থাকে। প্রাচীর নির্মাণ করা হলে মাঠ সুরক্ষিত থাকবে।

'তামাকমুক্ত স্কুলমাঠ পেয়ে আমরা খুব খুশি হয়েছি', বলেন তিনি।

দুর্গাপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সহিদুল ইসলাম ডেইলি স্টারকে বলেন, 'স্কুলমাঠটি তামাকমুক্ত হওয়ায় শিক্ষার পরিবেশ ফিরেছে। স্কুলের ফান্ড না থাকায় মাঠের চারদিকে প্রাচীর নির্মাণ সম্ভব হচ্ছে না।'

'স্কুলমাঠে আর কোনোদিন যেন তামাক ঢুকতে না পারে, সেদিকে আমরা অবশ্যই কঠোর নজরদারি বজায় রাখব', বলেন তিনি।