অসময়ে বন্যার পর ঝড়-শিলা বৃষ্টি

তিস্তার বুকে চর গোবর্ধানে সহস্রাধিক পরিবারে শুধুই অশ্রু

এস দিলীপ রায়
এস দিলীপ রায়

রাত পোহালেই ঈদুল ফিতর। অকাল বন্যার পর ঝড় ও শিলা বৃষ্টির কারণে ঈদ আনন্দ ম্লান হয়ে গেছে লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলার মহিষখোচা ইউনিয়নে তিস্তার চর গোবর্ধানে সহস্রাধিক পরিবারের। বন্যা ও কয়েক দফায় কালবৈশাখী ঝড় ও শিলা বৃষ্টিতে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হওয়ায় দিশাহারা হয়ে পড়েছেন চরের কৃষক। এসব পরিবারের সবার চোখে শুধু অশ্রু।

চর গোবর্ধান এলাকার কৃষকরা দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, কয়েক দফায় কালবৈশাখী ঝড় আর শিলা বৃষ্টিতে ভুট্টা, ধান ও অন্যান্য ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। আধা পাকা ভুট্টা ক্ষেতের মধ্যেই নুয়ে পড়েছে, নষ্ট হয়ে গেছে।

স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ সদিস্য মতিয়ার রহমান মতি ডেইলি স্টারকে বলেন, চর গোবর্ধানে সহস্রাধিক কৃষি পরিবার বাস। তাদের বিকল্প কোনো পেশা নেই। প্রায় ৮ হাজার বিঘা জমিতে ধানসহ নানা রকম ফসল উৎপাদন হয়ে থাকে। অসময়ে বন্যায় নদীর বুকে ফসল নষ্ট হওয়ার পর হানা দেয় কালবৈশাখী ঝড় ও শিলা বৃষ্টি। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন সবাই।

চর গোবর্ধানের কৃষকরা স্থানীয় মহাজনদের কাছে ঋণ এবং সার-কীটনাশক বাকি নিয়ে ফসল উৎপাদন করেন। উৎপাদিত ফসল বিক্রি করে ঋণ শোধ করেন এবং সারা বছর চলেন তারা। এ বছর সেটা সম্ভব হবে না, বলেন তিনি।

অরেক ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য হারুনুর রশিদ বলেন, চর গোবর্ধানে অনেকে সেমাই-চিনিও কিনতে পারেননি। ঈদের দিন দুমুঠো ভালো খাবার খাবেন সেই ব্যবস্থাও নেই। সরকারের নিরাপত্তাবেষ্টনী কার্যক্রম ভালনারেবল গ্রুপ ফিডিং (ভিজিএফ) কর্মসূচির ১০ কেজি করে চাল বিতরণ করা হয়েছে। তবে তা পেয়েছে মাত্র ১০ শতাংশ পরিবার।

lalmonirhat_char_2may22.jpg
ছবি: এস দিলীপ রায়/স্টার

চর গোবর্ধানের কৃষক আমেনা বেগম বলেন, কালবৈশাখী ঝড় আর শিলা বৃষ্টিতে তাদের ৬ বিঘা জমির ধান ও ভুট্টার ক্ষতি হয়েছে। এসব ভুট্টা ও ধান আধা পাকা ছিল। তিনি বলেন, 'হামারগুলার ঈদ নাই বাহে। হামরাগুলা শ্যাষ হয়া গ্যাইনোং। অ্যালা হামারগুলার চোখোত খালি পানি আর পানি।'

চর গোবর্ধানের কৃষক দবিয়ার রহমান বলেন, 'অকাল বানোত হামার ফসল নষ্ট হইছে। তারপর ফের ঝড় আর শিলা বৃষ্টি আসিয়া আইদরা ফসল নষ্ট করি দেইল। অ্যালা হামার মরন ছাড়া উপায় নাই। হামরা লোন শোধ কইরমো কী দিয়া, হামরা খামো কী?

তিনি আরও বলেন, 'হামরার ফির ঈদ! হামার ঈদ নাই। ঈদের দিন খামো কী সেটাইর কোনো ব্যবস্থা নাই। সেমাই-চিনি কিনির পাং নাই। নয়া জামা কাপড় এবার হামার ভাগ্যোত জোটে নাই,' তিনি বলেন।

একই গ্রামের কৃষক আমিনুল ইসলাম জানান, সরকারি সহায়তা আর সুদমুক্ত সুবিধা না পেলে এ ক্ষতি পুষিয়ে ঘুরে দাঁড়ানো যাবে না। ঋণের বোঝা নিয়ে বাড়ি-ঘর ছেড়ে অন্য কোথাও চলে যেতে হবে।

তিনি বলেন, 'হামাকগুলাক বাঁচান। হামরাগুলা অসহায় হয়া গ্যাইছোং। হামার পাশোত না দাঁড়াইলে হামরাগুলা বাঁইচবার নই।'