ঈদযাত্রায় ১৪ শতাংশ দুর্ঘটনা ও ২২ শতাংশ মৃত্যু বেড়েছে: যাত্রী কল্যাণ সমিতি
এবার ঈদের মৌসুমে ১৫ দিনে ৩৭২টি সড়ক দুর্ঘটনায় কমপক্ষে ৪১৮ জন নিহত ও ৮৪৪ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি।
সমিতির হিসাবে, এ সময়ে সড়ক দুর্ঘটনার পরিমাণ ও মৃত্যুর হার গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৪ দশমিক ৫১ শতাংশ এবং ২২ দশমিক ৩৫ শতাংশ বেশি।
এর পাশাপাশি সমিতির পক্ষ থেকে একই সময়ে ২৭টি রেল দুর্ঘটনায় ২৫ জন ও দুটি নৌ-দুর্ঘটনায় ২ জন নিহত হওয়ার কথা জানানো হয়।
সংগঠনের মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরী আজ বুধবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, বরাবরের মতো এবারও শীর্ষে আছে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা। এবারের ঈদে ১৬৪টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ১৪৫ জন নিহত ও ১১০ জন আহত হয়েছেন। যা মোট সড়ক দুর্ঘটনার ৪৪ দশমিক শূন্য ৮ শতাংশ ও মোট মৃত্যুর ৩৪ দশমিক ৮৫ শতাংশ।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থাপিত এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন অনুসারে, ঈদের সময় দুর্ঘটনায় নিহত চালকের সংখ্যা ১২৫ জন, যা নিহতদের মধ্যে সর্বোচ্চ। এর পাশাপাশি ৬০ জন পথচারী, ৩৫ জন নারী, ২৫ জন করে শিক্ষার্থী ও শিশু, ১২ জন পরিবহন শ্রমিক, ৫ জন রাজনৈতিক কর্মী, ২ জন করে শিক্ষক, বীর মুক্তিযোদ্ধা, ডিজিএফআই ও নৌবাহিনীর সদস্য এবং ১ জন করে পুলিশ সেনাবাহিনীর সদস্য ও ১ জন চিকিৎসক নিহত হয়েছেন।
বলা হয়, যাত্রী কল্যাণ সমিতির মনিটরিং সেল বিভিন্ন জাতীয় ও আঞ্চলিক দৈনিক এবং অনলাইন পোর্টালে প্রকাশিত এ সংক্রান্ত সংবাদ বিশ্লেষণ করে এই প্রতিবেদন তৈরি করেছে।
দুর্ঘটনার ধরন বিশ্লেষণ করে ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, সংঘটিত মোট দুর্ঘটনার ৩৩ দশমিক ৮৭ শতাংশ জাতীয় মহাসড়কে, ৪৪ দশমিক ৩৫ শতাংশ আঞ্চলিক মহাসড়কে ও ১৩ দশমিক ৪৪ শতাংশ ফিডার রোডে সংঘটিত হয়েছে। এছাড়া সারাদেশে সংঘটিত দুর্ঘটনার ৪ দশমিক ৮৩ শতাংশ ঢাকা মহানগরে ও ২ দশমিক ৪১ শতাংশ চট্টগ্রাম মহানগরে সংঘটিত হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, সরকারি বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়নের দীর্ঘসূত্রতার পাশাপাশি গণপরিবহন ব্যবস্থার উন্নয়ন না হওয়ায় ভোগান্তি ও যানজট থেকে বাঁচতে মানুষ বিকল্প হিসেবে মোটরসাইকেলসহ ছোট যানবাহনের ব্যবহার অস্বাভাবিক হারে বাড়িয়ে দিয়েছে। ফলে দুর্ঘটনার পরিমাণ বেড়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত বুয়েটের দুর্ঘটনা গবেষণা কেন্দ্রের পরিচালক অধ্যাপক হাদিউজ্জামান বলেন, প্রতি বছর ৫ লাখ মোটরসাইকেল বিপনন করে ব্যবসায়ীরা ৫ হাজার কোটি টাকা আয় হলেও দুর্ঘটনায় ২০ থেকে ২৫ হাজার কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতি হচ্ছে। এই বাহনটি কখনো গণপরিবহনের বিকল্প হতে পারে না।