চরভৈরবী বাজারে অগ্নিকাণ্ড, পুড়ে গেছে অর্ধশত দোকান

নিজস্ব সংবাদদাতা, চাঁদপুর

চাঁদপুরের হাইমচর উপজেলার চরভৈরবী বাজারে একটি খাবার হোটেল থেকে অগ্নিকাণ্ড শুরু হয়ে ওই বাজারের প্রায় অর্ধশত দোকান পুড়ে গেছে।

আজ বৃহস্পতিবার ভোর সাড়ে ৫টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় মানুষ এবং ফায়ার সার্ভিসের ২টি দলের তৎপরতায় সকাল ৭টার দিকে আগুণ নিয়ন্ত্রণে আসে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও চরভৈরবীর বাসিন্দা শিমুল চোকদার বলেন, 'বাজারের ইসলামীয়া হোটেলের রান্নাঘর থেকে অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তেই পাশের সিলিন্ডার গ্যাস, পেট্রোল, ডিজেল ও সুতার দোকানে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। এর ফলে আশেপাশের অন্তত আরও প্রায় ৫০টি ছোট-বড় দোকান আগুনে পুড়ে যায়।'

তিনি আরও বলেন, 'এ সময় অধিকাংশ দোকান বন্ধ ছিল। এ ছাড়াও যেসব দোকানে লোকজন থাকতেন, তাদের অধিকাংশ তখন নামাজে ছিলেন।'

আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী আনোয়ার সরদার বলেন, 'অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হওয়া হোটেলের পাশে আমার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে প্রায় ২ কোটি টাকার মালামাল ছিল। এর মধ্যে জেলেদের জন্য পেট্রোল, ডিজেল ও গ্যাস সিলিন্ডারসহ বিভিন্ন ধরনের সুতা জাল ছিল। সবকিছু মুহূর্তের মধ্যে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।'

চরভৈরবী ইউপি সদস্য আলমাস বকাউল বলেন, 'এই বাজারটি স্থানীয় জেলেপল্লী নির্ভর। এখানে জেলেদের প্রয়োজনীয় সামগ্রী ছাড়াও অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী পাওয়া যায়। এ কারণে এখানে খোলা বাজারে বা টিনের ঘরে পেট্রোল, ডিজেলসহ গ্যাস সিলিন্ডারের দোকান রয়েছে।'

চাঁদপুর ফায়ার সার্ভিসের উপপরিচালক মো. সাহিদুল ইসলাম বলেন, 'আগুনের সংবাদ পেয়ে আমাদের ২টি ইউনিট দ্রুততম সময়ে সেখানে উপস্থিত হয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণ করে। কিন্তু সেখানে অনিয়মতান্ত্রিকভাবে সিলিন্ডার গ্যাস, পেট্রোল, ডিজেলের দোকান থাকায় মুহূর্তেই প্রায় ৫০টি দোকান পুড়ে যায়।'

তিনি আরও বলেন, 'অধিকাংশ দোকান কাঠ ও টিনের হওয়ায় রক্ষা করা যায়নি। দোকানগুলো নদীর পাড়ে হওয়ায় প্রচণ্ড বাতাসে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। তবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এখনো নিশ্চিত হওয়ায় যায়নি।'

খাবারের হোটেল থেকে অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত নিশ্চিত করে তিনি জানান, স্থানীয় প্রশাসন ঘটনাস্থলে ক্ষতিগ্রস্তদের একটি তালিকা করেছে।