ছেলে-পুত্রবধূ-নাতির খোঁজ মেলেনি, অর্ধপোড়া কাপড় নিয়ে ঘরে ফিরলেন ফরিদা
শুক্রবার ভোরে ঝালকাঠির সুগন্ধা নদীতে পুড়ে যাওয়া এমভি অভিযান-১০ লঞ্চের যাত্রী ছিলেন বরগুনার ফরিদা বেগমের ছেলে, পুত্রবধূ ও আড়াই বছরের নাতি।
শনিবার সকালে ফরিদা বেগম ছেলে নজরুল ইসলাম এবং জামাতা শরিফুল ইসলামকে নিয়ে তাদের খুঁজতে ঝালকাঠিতে আসেন। তবে, তাদের খুঁজে পাননি। ঝালকাঠি লঞ্চ টার্মিনালে রাখা পুড়ে যাওয়া লঞ্চটির ডেকের একটি স্টাফ কেবিনে নাতি নাসরুল্লাহর অর্ধপোড়া কাপড় খুঁজে পান। কিন্তু, ছেলে হাকিম শরীফ এবং পুত্রবধূ পাখির কোনো চিহ্ন খুজে পাননি।
স্বজনদের অর্ধপোড়া কাপড়ের কিছু অংশ পলিথিনে করে বিকেলে বাড়িতে নিয়ে যান ফরিদা বেগম। নিখোঁজ স্বজনদের ফিরে না পেলেও এগুলোই স্মৃতি হিসেবে রেখে দিবেন বলে জানান তিনি।
তিনি জানান, মেয়ের বিয়ের জন্য প্রয়োজনীয় পোশাক ও অন্যান্য জিনিসপত্র নিয়ে বরগুনার উদ্দেশ্যে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ঢাকার সদরঘাট থেকে ওই লঞ্চে ওঠেন হাকিম, পাখি এবং তাদের শিশুপুত্র নাসরুল্লাহ। একটি স্টাফ কেবিন ভাড়া নেন তারা। এরপর শুরু হয় তাদের গ্রামে ফেরার যাত্রা।
কিন্তু, লঞ্চটি ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলার দপদপিয়া এলাকায় আসার পর ইঞ্চিনে সমস্যা দেখা দেয়। বরগুনা যাওয়ার পথে ঝালকাঠিসহ ৪-৫টি ঘাট থাকলেও একটিতেও বিরতি নেয়নি লঞ্চটি। সর্বশেষ লঞ্চটির ইঞ্চিনে আগুন ধরে ঝালকাঠি সদর উপজেলার গাবখান ধানসিঁড়ি ইউনিয়নের চরকাঠী গ্রামে বিষখালী নদীর তীরে বন্ধ হয়ে যায়। এরপর সেখানে কৌশলে নেমে পড়ে লঞ্চের পুরো স্টাফ সদস্যরা। এসময় কিছু যাত্রীও সেখানে লাফিয়ে নদীতে পড়ে নিজেদের জীবন রক্ষা করে।
পরে জোয়ারের তোড়ে ভাসতে ভাসতে লঞ্চটি একই উপজেলার পোনাবালিয়া ইউনিয়নের দিয়াকুল গ্রামে সুগন্ধা নদীর চরে গিয়ে আটকে পড়ে। সেখানেই জ্বলে পুড়ে ছাই হয়ে যায় লঞ্চের ৩টি তলায় থাকা সবকিছুত। স্থানীয়দের সহযোগিতায় লঞ্চের অধিকাংশ যাত্রীরা ওই গ্রামে নেমে তাদের জীবন রক্ষা করে। পরবর্তীতে লঞ্চ থেকে ৩০টি পোড়া মরদেহ উদ্ধার করে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা। এ ছাড়া, নদী থেকেও কয়েকটি পোড়া ও অর্ধপোড়া মরদেহ উদ্ধার করা হয়।