ঝালকাঠিতে তেলবাহী জাহাজে অগ্নিকাণ্ডে নিহত ১, আহত ৭

নিজস্ব সংবাদদাতা, বরিশাল  

ঝালকাঠির সুগন্ধা নদীতে 'সাগর নন্দিনী-৩' নামের একটি তেলবাহী জাহাজে আগুন লেগে একজন নিহত হয়েছেন। দগ্ধ হয়েছেন আরও অন্তত ৭ জন। আজ শুক্রবার সকালে এ ঘটনা ঘটে।  

ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে, নিহত শ্রমিক কামরুল ইসলামের (৩৫) বাড়ি বাগেরহাটের মোড়লগঞ্জ উপজেলায়। আহত হরেন, রুবেল, রনি, শহীদুল ইসলাম, মেহেদী, আসিফ রিপন, ও রাকিবকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

ঝালকাঠী ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের স্টেশন মাস্টার শহিদুল ইসলাম দ্য ডেইলি স্টারকে জানান, সকাল সাড়ে ৮টার দিকে  ইঞ্জিন রুমে আগুনের খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধার কাজ শুরু করে। এ সময় জাহাজের তলা ফেটে পানি উঠতে থাকলে পানি সরিয়ে জাহাজটিকে বিপদমুক্ত করে ফায়ার সার্ভিস। প্রায় ২ ঘণ্টার চেষ্টায়  আগুন নেভানো সম্ভব হয়।  

তিনি আরও বলেন, 'আমরা গুরুতর আহত মোট ৮ জনকে আমরা প্রথমে ঝালকাঠি হাসপাতাল ও পরে বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করাই। এ সময় চিকিৎসকরা শ্রমিক কামরুল ইসলামকে মৃত ঘোষণা করেন।'  

বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটের ইনচার্জ ডা. মো. তাবিথ মল্লিক জানান, গুরুতর আহত যে ৭ জনকে ভর্তি করা হয়েছিল, তাদের শরীরের ৪০ থেকে ৭০ শতাংশ আগুনে পুড়ে গেছে। অন্তত ৩ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। অবস্থার অবনতি ঘটায় ৭ জনকেই ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

পদ্মা অয়েল কোম্পানির বিপণন কর্মকর্তা শফিউল ইসলাম বিশ্বাস জানান, 'সাগর নন্দিনী-৩' জাহাজটি প্রায় ১১ লাখ লিটার পেট্রোল ও ডিজেল নিয়ে ঝালকাঠির পদ্মা অয়েল কোম্পানির সামনে সুগন্ধা নদীতে নোঙর করে। বুধবার বিকেলে পদ্মা ডিপোতে  প্রায় ২ লাখ লিটার পেট্রোল খালাস করা হয়। আজ ৯ লাখ ২৩ হাজার লিটার ডিজেল খালাস করার কথা ছিল। কিন্তু সকালে ইঞ্জিন রুমে সমস্যা দেখা দিলে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।

আহত সুপারভাইজার রুবেল বলেন, 'আজ ডিজেল খালাস করার কথা থাকলেও পাইপে সমস্যার কারণে খালাস করা যাচ্ছিল না। তাই লোক ডেকে মেরামতের কাজ চলছিল। এ সময় পাইপের গ্যাস থেকে হঠাৎ আগুন ধরে যায়।'

জেলা প্রশাসক মো. জোহর আলী এবং পুলিশ সুপার ফাতিহা ইয়াসমিন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে জাহাজে বহনকৃত তেল দ্রুত সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।

অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় পদ্মা ওয়েল কোম্পানির কর্মকর্তারা চট্টগ্রাম থেকে রওনা দিয়েছেন।