নারায়ণগঞ্জে ফ্ল্যাটে বিস্ফোরণ: ২ নারী নিহত, দগ্ধ আরও ৮
নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলায় একটি ফ্ল্যাট বাসায় বিস্ফোরণে ২ নারী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও অন্তত ৮ জন। বাসার চুলা লিকেজ হয়ে জমে থাকা গ্যাস থেকে এ বিস্ফোরণ হয়েছে বলে ধারণা করছে ফায়ার সার্ভিস।
আজ শুক্রবার সকালে উপজেলার পূর্ব শিয়াচর এলাকায় 'মুজাহিদ ভিলা' নামে পাঁচতলা ভবনের নিচ তলার বাসায় এই বিস্ফোরণ ঘটে। পরে খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন।
এতে মায়া রানী দাস (৪০) ঘটনাস্থলে এবং মঙ্গলী রানী (২৫) ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন বলে জানা গেছে।
নিহত মায়া রানী দাস সিলেট সুনামগঞ্জ এলাকার ওরকিত দাসের স্ত্রী। তার মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতাল মর্গে রাখা হয়েছে। মঙ্গলী রানীর বিস্তারিত পরিচয় পাওয়া যায়নি।
আহতরা হলেন, মো. নাছির (৩৩), হোসেন মিয়া (৩৩), জাহিদুল ইসলাম (৪৫), ঝুমা (২০), মনি (২৫), কলসি (৫৫), রুবেল (২২) ও হৃদয় দাস (৪২)। তাদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
এলাকাবাসীরা জানান, ভোর ৬টায় বিকট শব্দে মোক্তার মিয়ার পাঁচতলা বাড়ির নিচতলার ফ্ল্যাটে বিস্ফোরণ হয়। এতে অত্র এলাকা কেপে উঠে। ভয়ে মানুষ ভবন থেকে নিচে নেমে আসেন। পরে ওই ফ্ল্যাটের বাসিন্দাদের চিৎকার শুনে তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানকার ডাক্তার মায়া রানীকে মৃত ঘোষণা করেন।
সরেজমিনে দেখা যায়, ভবনের ৫টি রুমের দেয়াল ও জানালা ভেঙে গেছে। আশপাশের ভবনের কাচের জানলাও ভেঙে গেছে। এলোমেলোভাবে পড়ে আছে ঘরের আসবাবপত্র। ভবনটির সিঁড়িসহ বিভিন্ন জায়গায় ফাটল দেখা দিয়েছে।
বাড়ির মালিক মোক্তার হোসেনের স্ত্রী মোর্শেদা বেগম দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'ভোর ৬টায় হঠাৎ বিকট শব্দে ভবন কেপে উঠে। আমাদের দুইতলার দুটি জানলার গ্লাস ভেঙে পড়ে যায়। প্রথমে আমরা মনে করেছি ভূমিকম্প হচ্ছে। পরে দৌড়ে নিচে নেমে দেখি আগুন ধরেছে। সবগুলো রুমের দেয়াল ভেঙে পড়ে আছে। ভাড়াটিয়ারা কেউ নেই। তখন আমরা ভবন থেকে সবাইকে ডেকে নিচে নামিয়ে আনি। কীভাবে বিস্ফোরণ হয়েছে কিছুই জানি না।'
তিনি বলেন, 'নিচতলার ৫টি রুমে ৪টি পরিবার বসবাস করে। আহতদের কোন হাসপাতালে নিয়েছে কিছুই জানি না।'
ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স নারায়ণগঞ্জের সহকারী উপ-পরিচালক আব্দুল্লাহ আল আরেফিন দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'পাঁচতলা ভবনের নিচতলার একটি ফ্ল্যাট বাসায় বিস্ফোরণ হয়েছে। আমাদের দুটি ইউনিট এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। বিস্ফোরণে ওই বাসার ৫টি রুমের দেয়াল ও জানলা ভেঙে চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে গেছে।'
'বিস্ফোরণে পাশের একটি সেমিপাকা ঘরের দেয়াল ভেঙে মায়া রানীর ওপর পড়ে। এতে তিনি ঘটনাস্থলেই মারা যান। এ ঘটনায় আরও ৮ জন আহত ও দগ্ধ হয়েছেন। তাদের উদ্ধার করে প্রথমে নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতাল এবং পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ অন্যান্য হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। আহতদের বিস্তারিত পরিচয় না পাওয়ায় তারা একই পরিবারের কিনা বলা যাচ্ছে না', যোগ করেন তিনি।
এই বিস্ফোরণের বিষয়ে আব্দুল্লাহ আল আরেফিন বলেন, 'বিস্ফোরণের বিষয়ে তদন্ত চলছে। প্রাথমিক ধারণা, রান্নার চুলার লিকেজ হওয়া গ্যাস ঘরের ভেতরে জমে ছিল। ভোরে যখন রান্নার জন্য চুলা জ্বালাতে গেছে কিংবা বৈদ্যুতিক সুইচ অন করতে গেলে স্পার্ক থেকে বিস্ফোরণ হয়েছে।'
তিনি আরও বলেন, 'বিস্ফোরণে ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে গেছে। এজন্য ভবনের সব বাসিন্দাদের বের করে দেওয়া হয়েছে।'
এদিকে, সকাল ১১টায় ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মো. তোফাজ্জল হোসেন। পরে তিনি ভবনটি সিলগালা করে দেন।
নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক (ডিসি) মোস্তাইন বিল্লাহ দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'বিস্ফোরণের ঘটনায় অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোসাম্মৎ রহিমা আক্তারকে প্রধান করে সদর উপজেলার ইউএনও, ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশকে নিয়ে ৭ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে আগামী ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার জন্য বলা হয়েছে। এতে কারও কোনো গাফিলতি থাকলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।'
তিনি বলেন, 'নিহত মায়া রানী দাসের পরিবারকে ২০ হাজার টাকা অনুদান দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি আরও ২ দগ্ধ ব্যক্তিকে ১০ হাজার করে টাকা চিকিৎসার জন্য দেওয়া হয়েছে।'