পটুয়াখালী সরকারি কলেজ ছাত্রাবাসের ফ্লোর ধসে ১০ শিক্ষার্থী আহত   

নিজস্ব সংবাদদাতা, পটুয়াখালী

পটুয়াখালী সরকারি কলেজ ছাত্রাবাসের ফ্লোর ধসে ৫ ফুট গভীর গর্তের সৃষ্টি হয়েছে এবং সেই গর্তে পড়ে অন্তত ১০ শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন।

এদের মধ্যে ৭ জনকে পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অন্যরা হাসপাতাল থেকে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।

গতকাল সোমবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে ৩ তলা ছাত্রাবাস ভবনের নিচতলার ১০৭ নম্বর কক্ষের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

হাসপাতালে ভর্তি শিক্ষার্থীরা হলেন, বাপ্পি, আতিক, মামুন, আজাদ, রুমান, রাকিব ও নাঈম। এদের মধ্যে অনার্স প্রথম বর্ষের পরীক্ষার্থী ৪ জন। তাদেরকে হাসপাতাল থেকে সকাল সাড়ে ৮টায় পরীক্ষার হলে আনা হয়েছে।

আহত শিক্ষার্থী মো. রুমান ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ছাত্ররা সবাই ছাত্রাবাসে আসার পর রাত ১১টার দিকে ওই ভবনের নিচতলার ১০৭ নম্বর কক্ষে ছাত্রাবাসের আসন বণ্টন নিয়ে বৈঠক হয়। বৈঠক শেষে ২০ থেকে ২৫ জন ছাত্র বারান্দায় বের হন। এসময় হঠাৎ পাকা ফ্লোর নিচে ধসে পড়ে মুহূর্তেই প্রায় ৫ থেকে ৭ ফুট গভীর গর্তের সৃষ্টি হয় এবং অধিকাংশ শিক্ষার্থী গর্তে পড়ে যান। চিৎকার শুনে অন্য শিক্ষার্থীরা আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান।

পটুয়াখালী সরকারি কলেজের উপাধ্যক্ষ মো. শাহ আলমগীর দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'কিছুদিন আগে ড্রেজার দিয়ে কলেজের মাঠে বালু ফেলা হয়েছে। ওই ড্রেজারের পানি সরানোর সময় ভবনের নিচ থেকে মাটি সরে যেতে পারে। বিষয়টি শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরকে জানানো হয়েছে।'

শিক্ষা অধিদপ্তরের পটুয়াখালী জোনের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. হাদিউজ্জামান খান বলেন, 'ড্রেজার দিয়ে কলেজের মাঠ ভরাট করা হয়েছে। তখন ওই মাঠ থেকে পানি সরানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। এতে মাঠের পানি ওই ভবনের পশ্চিম পাশের নিচ দিয়ে সরতে থাকে। একপর্যায়ে ভবনের নিচের বালি সরে গিয়ে বড় গর্তের সৃষ্টি হয়। ভবনের নিচতলার ফ্লোরে ইট বিছিয়ে তার ওপর ঢালাই করা ছিল। এতে দেখে বোঝার উপায় নেই যে নিচের জায়গা ফাকা। রাতে ছাত্ররা ওখানে গেলে নিচের ফাকা জায়গার অংশটুক তাদেরকে নিয়ে ভেঙে পড়ে যায়।'

তিনি আরও বলেন, 'আমরা ইতোমধ্যে সংস্কার কাজ শুরু করেছি। ৩ তলা ওই ছাত্রাবাস ভবনটি ২০০৮ সালে নির্মাণ করে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর।'