‘ভগবান তুমি কেন আমাকেও নিয়ে গেলে না, আমি কীভাবে বাঁচব’
কক্সবাজারের চকরিয়ায় পিকআপ ভ্যানের ধাক্কায় নিহত পাঁচ ভাইয়ের পরিবারে এখনো মাতম চলছে। সন্তানদের হারিয়ে মা মানু রানী শীল এখন পাগলপ্রায়। কিছুদিন আগেই স্বামী হারিয়েছেন তিনি।
আজ বুধবার দুপুরে ডুলাহাজরা ইউনিয়নের হাসিনাপাড়া গ্রামে নিহত পাঁচ ভাইয়ের বাড়িতে গিয়ে স্বজনদের কান্নাকাটি করতে দেখা যায়। সঙ্গে চলছিল নিহতদের বাবা সদ্য প্রয়াত সুরেশ চন্দ্র শীলের শ্রাদ্ধ অনুষ্ঠান। সন্তানহারা মা সদ্য বিধবা মানু রাণী শীল (৭০) লোকজনের দিকে তাকিয়ে বিলাপ করছেন—ভগবান আমার ছেলেদের কী হবে, আমার বৌমা নাতি-নাতনিদের কি হবে, তারা কীভাবে জীবন কাটাবে, ভগবান তুমি কেন আমাকেও নিয়ে গেলে না, আমি কীভাবে বাঁচব?
মানু রানীর বিলাপে পাড়া-প্রতিবেশীরা চোখে জল ধরে রাখতে পারছিলেন না।
গতকাল মঙ্গলবার ভোরে কক্সবাজার-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ওই দুর্ঘটনায় আহত দুই ভাই-বোন মুমূর্ষু অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। আহত হীরা শীল মালুমঘাট খ্রিস্টান মেমোরিয়াল হাসপাতালে এবং ভাই রক্তিম শীল চট্টগ্রামের ম্যাক্স হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তি আছেন।
ডুলাহাজারা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাসানুল ইসলাম আদর ডেইলি স্টারকে বলেন, দুই ভাই-বোনকে ২০ ব্যাগ রক্ত দেওয়া হয়েছে।
নয় ভাইবোনের মধ্যে সবার ছোট প্লাবন শীল দুর্ঘটনায় অক্ষত থাকলেও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছেন। তাকে আজ দুপুরে চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন।
গত ২৮ জানুয়ারি বাবার মৃত্যুতে ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের জন্য মঙ্গলবার ভোরে আট ভাই ও এক বোন স্থানীয় একটি মন্দিরে গিয়েছিলেন। ফিরবার পথে পিকআপ ভ্যানের ধাক্কায় ঘটনাস্থলেই একসঙ্গে চার ভাইয়ের মৃত্যু হয়। পরে বিকেলে হাসপাতালে আরও একজন মারা যান।
আজও হাসিনাপাড়া গ্রামে তাদের বাড়িতে মানুষ ভিড় করছেন, সন্তানহারা পাগলপ্রায় মাকে সান্ত্বনা দিচ্ছেন।
চকরিয়া থানার ওসি মো. ওসমান গণী দ্য ডেইলি স্টারকে জানান, সবচেয়ে ছোট ভাই প্লাবন শীল অজ্ঞাতনামা লোকজনকে আসামি করে মঙ্গলবার রাতে চকরিয়া থানায় মামলা করেছেন।
চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জেপি দেওয়ান ডেইলি স্টারকে বলেন, জেলা প্রশাসকের পক্ষ থেকে নিহত পাঁচ ভাইয়ের প্রত্যেকের পরিবারকে নগদ ২৫ হাজার টাকা করে অনুদান দেওয়া হয়েছে। এই পরিবারগুলো বহুদিন ধরে বন বিভাগের জায়গায় বসবাস করছেন। প্রত্যেকের পরিবারকে ঘর তৈরি করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
কক্সবাজার-১ আসনের সাংসদ জাফর আলম ডেইলি স্টারকে বলেন, দরিদ্র অসহায় পরিবারগুলোর পুনর্বাসন নিয়ে সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে কথা বলছি। বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর কাছেও পেশ করব।
মঙ্গলবার ভোর সাড়ে ৫টায় কক্সবাজার-চট্টগ্রাম মহাসড়কে নিহত পাঁচ ভাই হলেন—অনুপম শীল, নিরুপম শীল, দীপক শীল, চম্পক শীল ও স্মরণ শীল। আহত হন হীরা শীল ও রক্তিম শীল। অক্ষত অবস্থায় বেঁচে যান মুন্নী শীল ও প্লাবন শীল।