রাজধানীতে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৩

স্টার অনলাইন রিপোর্ট

রাজধানীতে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় ৩ জন নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া, আহত হয়েছেন আরও ৪ জন।

গতরাত ৩টার দিকে রূপনগর বিরুলিয়া বেড়িবাঁধে দুই ট্রাক ও কোকাকোলাবাহী এক পিকআপের মধ্যে ত্রিমুখী সংঘর্ষ হয়। এতে এক ট্রাকের চালকসহ পিকআপের ৪ শ্রমিক আহত হন। পরে তাদের উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আজ সকালে দুজন মারা যান।

নিহতরা হলেন, পিকআপের শ্রমিক রফিক (২৫) ও ট্রাকচালক বাদল (৪৫)। আহতরা হলেন, ফয়সাল (১৯), সেলিম (২৬), রিপন (২৫) ও আলম (৪৫)।

নিহত বাদলের বাবা খলিলুর রহমান দ্য ডেইলি স্টারকে জানান, তাদের বাড়ি শরিয়তপুরের ডামুড্ডা উপজেলায়। বাদল বর্তমানে উত্তরা নলগোলা এলাকায় থাকতেন। তিনি ১০ চাকার বড় ট্রাক চালাতেন। ঘটনার সময় বাদলের মুন্সিগঞ্জ থেকে পাথর নিয়ে টঙ্গির দিকে যাওয়ার কথা ছিল।

নিহত রফিকের সহকর্মী জিলানী সর্দার ডেইলি স্টারকে জানান, রফিক শ্রমিকের কাজ করতেন। রাতে টঙ্গি থেকে পিকআপে কোকাকোলা নিয়ে শ্যামলী যাচ্ছিলেন। পিকআপে ৪ জন ছিলেন। রূপনগর বেড়িবাঁধ এলাকায় গেলে একটি পাথরবাহী ট্রাক ও একটি বালুবাহী ট্রাকের সঙ্গে পিকআপের ত্রিমুখী সংঘর্ষ হয়। এতে পিকআপে থাকা ৩ শ্রমিক ও চালক আলম আহত হন। পরে তাদের হাসপাতালে নিয়ে গেলে রফিক মারা যান।

তিনি আরও জানান, রফিকের বাড়ি লালমনিররহাট সদরে। বাবার নাম আবু জাফর।

ঢামেক পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ (পরিদর্শক) মো. বাচ্চু মিয়া ডেইলি স্টারকে জানান, মরদেহ দুটি ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে রাখা হয়েছে।

অপরদিকে, রাজধানীর বায়তুল মোকাররম মসজিদের দক্ষিণ গেটে যাত্রীবাহী বাসের ধাক্কায় ফারুক মিয়া (৫৬) নামে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) এক পরিচ্ছন্নকর্মী নিহত হয়েছেন।

আজ সকাল পৌনে ৮টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। মুমূর্ষু অবস্থায় ফারুককে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক সোয়া ৯টার দিকে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

পল্টন থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মহসিন হাবিব ডেইলি স্টারকে বলেন, 'ফারুক ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নকর্মী ছিলেন। সকালে বায়তুল মোকাররম মসজিদের দক্ষিণ গেটে রাস্তায় ঝাড়ু দেওয়ার কাজ করছিলেন। সেসময় স্বদেশ পরিবহনের একটি বাস তাকে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে রাস্তায় ছিটকে পরে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে দ্রুত ঢামেকে নিয়ে গেলে সেখানে তিনি মারা যান।

এসআই আরও জানান, ঘটনার পরপরই স্থানীয়রা বাসটি জব্দ করেন। কিন্তু এর চালক পালিয়ে যায়। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে রাখা হয়েছে।

ফারুক মিয়া পরিবারের সঙ্গে হাজারীবাগ গণকটুলি সিটি কলোনিতে থাকতেন বলেও জানান তিনি।