লঞ্চডুবিতে মৃতের সংখ্যা ১০: নৌপুলিশ

নিজস্ব সংবাদদাতা, নারায়ণগঞ্জ

নারায়ণগঞ্জের শীতলক্ষ্যা নদীতে কার্গো জাহাজের ধাক্কায় যাত্রীবাহী লঞ্চডুবির ঘটনায় ১০ জনের মরদেহ উদ্ধার হয়েছে বলে জানিয়েছে নৌপুলিশ।

এর আগে, ১১ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছিল ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সদস্যরা। তবে, তাদের একজন এই লঞ্চের যাত্রী ছিল না বলছে নৌপুলিশ।

এ ঘটনায় মঙ্গলবার রাতে মুন্সিগঞ্জ থানায় বাদী হয়ে অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করেছেন নারায়ণগঞ্জের সদর নৌথানা পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) মো. মোস্তফা।

মো. মোস্তফা দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'লঞ্চ ডুবির ঘটনায় ২১ মার্চ শীতলক্ষ্যায় ভাসমান অবস্থায় দু'জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এর মধ্যে একজন নারী ও একজন পুরুষ। নারীর পরিচয় পাওয়া গেলেও পুরুষ অজ্ঞাত ছিল। পরে ওই মৃত ব্যক্তির পরনের প্যান্টের পকেটে থাকা মোবাইল থেকে তার মায়ের নাম্বার পেয়ে ফোনে যোগাযোগ করি। খবর পেয়ে নিহতের ভাই দিদারুল আলম নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে এসে মরদেহের পরিচয় শনাক্ত করেন।'

নিহতের নাম জাহিদুল আলম লিমন (৩০)। তিনি ঢাকার যাত্রাবাড়ী এলাকার মৃত জাহাঙ্গীর আলমের ছেলে। একইসঙ্গে তিনি ত্রাণ মন্ত্রণালয়ে অফিস সহকারী হিসেবে চাকরি করতেন বলে জানান নৌপুলিশের এই কর্মকর্তা।

তিনি বলেন, '২১ মার্চ মুন্সিগঞ্জের মুক্তারপুর এলাকায় শীতলক্ষ্যা নদীতে ভাসমান অবস্থায় লিমনের মরদেহ উদ্ধার করে কোস্ট গার্ড। পরে মরদেহ লঞ্চডুবির ঘটনায় নিহত সন্দেহে আমাদের কাছে আনেন তারা। তখন আমরাও বিস্তারিত পরিচয় না পেয়ে মরদেহ জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠাই।'

নিহতের ভাইয়ের বরাত দিয়ে এসআই মোস্তফা বলেন, 'গত শুক্রবার রাতে সদরঘাট থেকে চাঁদপুর যাচ্ছিলেন লিমন। বাড়িতেও জানিয়েছিলেন তিনি। তারপর থেকেই নিখোঁজ ছিলেন। এ ঘটনার একদিন পর যাত্রাবাড়ী থানায় নিখোঁজের জিডিও করে স্বজনরা।'

তিনি বলেন, 'নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতাল মর্গে ময়নাতদন্ত শেষে মঙ্গলবার সকালে স্বজনদের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করা হয়েছে এবং রাতে মুন্সিগঞ্জ সদর থানায় অপমৃত্যুর মামলা করা হয়েছে।'

কীভাবে তার মৃত্যু হয়েছে জানতে চাইলে দ্য ডেইলি স্টারকে তিনি বলেন, 'নিহতের শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন নেই। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পাওয়ার পর মৃত্যুর সঠিক কারণ বলা যাবে। ধারণা করা যাচ্ছে, হয়তো লঞ্চ থেকে পা পিছলে নদীতে পড়ে গেছে।'

নারায়ণগঞ্জ সদর নৌ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান বলেন, '২১ মার্চ উদ্ধার হওয়া দুটি মরদেহের মধ্যে নারীর পরিচয় জানা গেছে। তবে, তাৎক্ষণিকভাবে পুরুষের পরিচয় পাওয়া যায়নি। ফলে, আমরা লঞ্চডুবির ঘটনায় নিহত মনে করি। পরে পরিচয় খুঁজতে গিয়ে জানা যায়, তিনি লঞ্চডুবির ঘটনায় মারা যাননি।'

তিনি আরও বলেন, 'আমরা লঞ্চ ডুবির ঘটনায় ১১ জনের মরদেহ উদ্ধার বলেছিলাম। কিন্তু, একজনের মরদেহ এ ঘটনার সঙ্গে যুক্ত না। তাই লঞ্চডুবির ঘটনায় উদ্ধার হয়েছে ১০ জনের মরদেহ। এ বিষয়ে আমরা জেলা প্রশাসন ও ফায়ার সার্ভিসকেও জানিয়ে দিচ্ছি।'

প্রসঙ্গত গত রোববার দুপুর সোয়া দুটায় নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার কয়লাঘাট এলাকায় সিটি গ্রুপের 'এমভি রূপসী-৯' কার্গো জাহাজের ধাক্কায় যাত্রীবাহী 'এমএল আফসার উদ্দিন' লঞ্চ ডুবে যায়।