লঞ্চে আগুন: যমজ বোন সামিয়া-লামিয়ার মরদেহ নিলেন মামা, মা নিখোঁজ

নিজস্ব সংবাদদাতা, পটুয়াখালী

ঝালকাঠির সুগন্ধা নদীতে এমভি অভিযান-১০ লঞ্চে অগ্নিকাণ্ডে নিহত যমজ বোন সামিয়া ও লামিয়ার মরদেহ শনাক্ত করে নিয়ে গেছেন স্বজনরা।

আজ শনিবার সকাল সাড়ে ৯টায় বরগুনা জেনারেল হাসপাতালের মর্গ থেকে মামা আব্দুল হান্নানের কাছে এই দুই শিশুর মরদেহ হস্তান্তর করেন বরগুনা জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মো. লুৎফর রহমান।

সামিয়া ও লামিয়া বরগুনার তালতলী উপজেলার আগাপাড়া গ্রামের রফিক হোসেনের মেয়ে। তারা ওই লঞ্চযোগে ঢাকা থেকে মায়ের সঙ্গে দাদাবাড়ি বেড়াতে যাচ্ছিল।

নিহতদের স্বজনরা জানান, মা শিমু আক্তার ও নানি দুলু বেগমের সঙ্গে বৃহস্পতিবার দাদাবাড়ি বেড়াতে বরগুনা যাচ্ছিল তারা। বাবা রফিক হোসেন অফিসের কাজে ব্যস্ত থাকায় তাদের সঙ্গে যাননি। ঢাকা থেকে বরগুনাগামী এমভি অভিযান-১০ লঞ্চটি ঝালকাঠির সুগন্ধা নদীতে এলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় গুরুতর দগ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যায় সামিয়া এবং লামিয়া। তাদের নানি গুরুতর আহত হয়ে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। এ ঘটনায় তাদের মা এখন পর্যন্ত নিখোঁজ। তাদের বাবা রফিক হোসেন স্ত্রীকে খুঁজতে শুক্রবারই বরিশালে আসেন।

লামিয়া ও সামিয়ার মামা আবদুল হান্নান দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'আমরা যমজ ভাগ্নির মরদেহ শনাক্ত করতে পেরেছি। মরদেহ বুঝে পেয়েছি। নিজেরা পারিবারিকভাবে তাদের দাফনের ব্যবস্থা করব।'

এদিকে, এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় নিহত ৩০ জনের জানাজা সম্পন্ন হয়েছে। আজ সকাল সাড়ে ১১টায় বরগুনা সার্কিট হাউস সংলগ্ন ঈদগাহ মাঠে তাদের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা শেষে এসব মরদেহ পোকটাখালী গণকবরে দাফন করা হয়।

উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার রাত ৩টার দিকে বরগুনাগামী এমভি অভিযান-১০ লঞ্চে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ঘটে। এ ঘটনায় ৩৯ জনের প্রাণহানি ঘটে। আহত হয়েছেন শতাধিক। নিখোঁজ রয়েছেন আরও অনেকে। নিহত ৩৯ জনের ৩৭ জনই বরগুনার বাসিন্দা।