‘শান ফেব্রিকস’র আগুন নিয়ন্ত্রণে, তদন্তের পর বিস্তারিত বলা যাবে: ফায়ার সার্ভিস
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলায় 'শান ফেব্রিকস' সুতা কারখানার আগুন ৬ ঘণ্টা পর নিয়ন্ত্রণে এসেছে। তবে এখনো তুলার চাপা আগুন নেভাতে কাজ করছেন ফায়ার সার্ভিস সদস্যরা। বর্তমানে প্রায় ২০ জন ফায়ারম্যান ঘটনাস্থলে কাজ করছেন।
গতকাল বিকেল সাড়ে ৪টায় উপজেলা মেঘনা ঘাট এলাকায় ওই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। রাত সাড়ে ১০টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।
ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্স নারায়ণগঞ্জের সহকারী পরিচালক তানহারুল ইসলাম দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'রাত ১০টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে এসেছে। তবে এখনো শেষ হয়নি। ডাম্পিংয়ের কাজ চলছে। রাতে ৮টি ইউনিট কাজ করছে। এখন ২০ জনের মতো ফায়ারম্যান ঘটনাস্থলে আছেন। কাজ শেষ হতে আরও সময় লাগবে।'
তিনি বলেন, 'আগুন একেবারে নেভাতে আরও কয়েক ঘণ্টা লাগবে। হতাহতের কোনো তথ্য পাইনি। আগুনের সূত্রপাত ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এ মুহূর্তে বলা সম্ভব হচ্ছে না। এ ঘটনায় তদন্ত কমিটি করা হবে। তদন্তের পর বিস্তারিত বলা যাবে।'
তানহারুল ইসলাম আরও বলেন, 'তুলার আগুন, যে কারণে নেভাতে দীর্ঘ সময় লাগে। তুলার ওপরে পানি পড়লেও ভেতরে আগুন জ্বলতে থাকে। এটা আবার কিছুক্ষণ পর জ্বলে উঠে। কারখানাটি প্রায় ২ লাখ বর্গফুট জায়গা নিয়ে করা। যার মধ্যে গোডাউনে আগুন লেগেছে। কোনো পার্টিশনও ছিল না। এক দিক দিয়ে আগুন নিভিয়ে আরেকদিক গেলে ওই আগের জায়গায় আবার আগুন জ্বলে উঠে। যার জন্য আগুন পুরোপুরি নেভাতে সময় লাগছে। আশা করছি, আগুন আর ছড়াবে না।'
স্থানীয়রা জানান, কারখানার বাইরে থেকে প্রচুর কালো ধোয়া দেখে সবাই এগিয়ে যান। প্রথমে শ্রমিক ও স্থানীয়রা একত্রে আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন। এসময় আগুন নেভাতে এগিয়ে আসতে মসজিদের মাইকে ঘোষণাও দেওয়া হয়। কিন্তু আগুন বেশি ছড়িয়ে পড়লে ৯৯৯ নম্বরে ফোন দিয়ে জানানো হয়। তারপরই ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি আসে।
স্থানীয়রা আরও জানান, বিকেল ৪টায় শান ফেব্রিকস কারখানার ইউনিট-১ ও ইউনিট-২-এ আগুন লাগে। সুতা তৈরির জন্য তুলা মজুত থাকায় আগুন ভয়াবহ রূপ নেয়। পরে মুহূর্তের মধ্যে তা চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে।
শান ফেব্রিকসের শ্রমিকরা জানান, প্রতিদিনের মতো বৃহস্পতিবারও কারখানায় সুতা তৈরির কাজ চলছিল। হঠাৎ করে ইউনিট-১ এ আগুন লাগে। কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই আগুন দ্রুত ইউনিট-২ এ ছড়িয়ে পড়ে। প্রাণ বাঁচাতে শ্রমিকরা কারখানার দুটি গেট দিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে নিরাপদে বের হয়ে আসেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শ্রমিক বলেন, 'কারখানার পানির লাইনে পানি ছিল না। অগ্নিনির্বাপক গ্যাসের বোতলগুলোতেও গ্যাস ছিল না। যার জন্য আগুন প্রাথমিকভাবে নেভানো যায়নি। আর গোডাউন ভরা তুলা ছিল। ফলে দ্রুত আগুন ছড়িয়ে যায়। তখন প্রাণ বাঁচাতে সবাই দৌড়ে বাইরে চলে আসি। কিন্তু রাত ৯টা পর্যন্ত মালিক পক্ষের কাউকে দেখলাম না।'
রাতে ঘটনাস্থলে কারখানার মালিক কিংবা কোনো কর্মকর্তার খোঁজে পাওয়া যায়নি।