শিশু তাইফার মৃত্যু, দগ্ধ বাবা হাসপাতালে, নানা এখনো নিখোঁজ
ঝালকাঠির সুগন্ধা নদীতে এমভি অভিযান-১০ লঞ্চে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ১০ বছরের শিশু তাইফা আফরিন নিহত হয়েছে। তার বাবা বশির উদ্দিন গুরুতর দগ্ধ হয়ে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। অন্যদিকে তাইফার নানা ক্যান্সার আক্রান্ত আলী শিকদার নদীতে ঝাঁপ দিয়ে নিখোঁজ আছেন।
নিহত তাইফার বাড়ি বরগুনা সদর উপজেলার কেওড়াবুনিয়া ইউনিয়নের রোডপাড়া গ্রাম। তার বাড়িতে এখন চলছে শোকের মাতম।
বরগুনা জেলা প্রশাসক হাবিবুর রহমান তাইফার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বে জেলা প্রশাসনের একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। প্রাথমিকভাবে নিহতের প্রত্যেক পরিবারকে ২৫ হাজার টাকা ও আহতদের ১৫ হাজার টাকা করে অনুদান দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
বরগুনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কেএম তারিকুল ইসলামও তাইফার মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তাইফার স্বজনরা জানান, তাইফার নানা আলী শিকদার ক্যান্সারে ভুগছিলেন। তাকে চিকিৎসা করাতে বাবা বশিরের সঙ্গে তাইফাও ঢাকাতে ছিলো। চিকিৎসা শেষে বৃহস্পতিবার বিকেলে ঢাকার সদরঘাট থেকে বরগুনাগামী এমভি অভিযান-১০ লঞ্চে ওঠেন। লঞ্চটি ঘাট থেকে ছেড়ে ঝালকাঠি সদর উপজেলার গাবখান ধানসিঁড়ি ইউনিয়ন সংলগ্ন সুগন্ধা নদীতে পৌঁছালে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। তখন তাইফার নানা জীবন বাঁচাতে নদীতে ঝাঁপ দেন এবং তাইফার বাবা ও তাইফা লঞ্চে আটকে পড়ে। তাইফা অগ্নিদগ্ধ হয়ে লঞ্চেই মারা যায়, আর তার বাবা বশির গুরুতর দগ্ধ হন। তাইফার নানা আলী শিকদার এখনো নিখোঁজ আছেন।